লেবু-শসার দাম কমলেও চড়া বেগুন
রোজার শুরুতে বাজারে লেবুর দামে যে দাপট ছিল, সেটা দিনদিন কমেছে। এখন ১০ টাকার মধ্যে এসেছে প্রতিটি লেবুর দাম, যা রোজার শুরুতে তিনগুণ ছিল।
একইভাবে শসার দামও প্রতি কেজি ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কমেনি বেগুনের দাম। মাঝে কিছুটা কমলেও এখন আবার ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে এখন মোটামুটি মানের এক হালি লেবুর দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা। আকারে একটু বড় হলে এক হালির দাম পড়বে ৮০ টাকা, যা রোজার আগের দিন থেকে প্রথম দুদিন যথাক্রমে ১০০ ও ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এবারের রমজানে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে লেবু। রমজান মাস শুরুর ঠিক আগের দিন গত বুধবার ও রোজার প্রথম এবং দ্বিতীয় দিন আকার ও মানভেদে খুচরায় এক হালি লেবু সর্বোচ্চ ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যেখানে এই দামে এক ডজন ডিম, এক কেজির বেশি ছোলা, চিনি বা দুই কেজি চাল কেনা সম্ভব।
আরও পড়ুন
লেবু-শসা-বেগুনের দাম কমছে
রমজানে চড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, নাকাল ক্রেতারা
রোজা শুরুর আগেই লেবুর হালি ১০০ টাকা
তবে এখন বিক্রেতারা বলছেন, দিন যত যাচ্ছে লেবুর দাম তত কমছে। গত শনিবার প্রতি ডজন লেবুতে ১০ টাকা এবং রোববার আরও ১০-২০ টাকা দাম কমেছে। সোমবার-মঙ্গলবার আরও ১০-২০ টাকা কমেছে।
মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা ফরিদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, রোজার প্রথমে সবাই শরবত খেতে লেবু কেনেন। তখন দাম বেশি হলেও গায়ে লাগে না। এখন দিন যত যাবে, ঝোঁক তত কাটতে থাকবে। শেষে এক টাকা বেশি দিয়ে লেবু কেনার লোকও (ক্রেতা) থাকবে না।
এদিকে শুক্রবারের পরে দুই দিনে কাঁচামরিচ, খিরা ও শসার দাম আরও কিছুটা কমেছে। মান ও জাতভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়, যা তিন চারদিন আগেও ১৮০ থেকে ২০০ টাকা উঠেছিল।

এদিকে রোবরার শসা ও খিরা বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকায়, যা আগে ১০০ টাকায় বিক্রি হতো।
অন্যদিকে ইফতারে অনেকে বেগুনি খেতে পছন্দ করেন। যে কারণে প্রতি বছর রমজানের সময় বেগুনের দাম বাড়ে। সেই ‘ঐতিহ্য’ এবারও বজায় ছিল। রোজার শুরু থেকে প্রতি কেজি লম্বা বেগুনের দাম ২০ টাকা বেড়ে হয় ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এখন সেই বেগুন আবারও বেড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় উঠেছে।
সবজি বিক্রেতা আবু হাসেম বলেন, বেগুনের দাম দুদিন আগেও কমেছিল, এখন আবার নতুন করে বাড়ছে।
এদিকে সবুজ নামের এক ক্রেতা বলেন, রোজা এলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে, এটি নিয়তি। কারণ ওই সময় বাড়তি চাহিদা পুঁজি করে পাইকারি থেকে খুচরা—সব পর্যায়ের বিক্রেতারা রমজানে অতিরিক্ত মুনাফা করেন।
এনএইচ/ইএ