ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার, হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি লেনদেন
দেশের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে সবকটি মূল্য সূচক। সেই সঙ্গে লেনদেন বেড়ে হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি চলে এসেছে।
এর আগে গতকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) লেনদেনের বেশিরভাগ সময় শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রবণতা ছিল। তবে দুপুরের দিকে ঘুরে দাঁড়ায় শেয়ারবাজার। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে সূচক ঋণাত্মক থেকে পজিটিভ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর দেওয়ার পর আজ ছিল শেয়ারবাজারের প্রথম কার্যদিবস।এদিন শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্য সূচকের মোটামুটি বড় উত্থান দিয়ে শেয়ারবাজারের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৩টির। আর ৫৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১১৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫৬টির দাম কমেছে এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৫৪টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ১৯টির দাম কমেছে এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৭০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮টির এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮টির দাম কমেছে এবং ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৬৯ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯৪৭ কোটি ২৮ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৬৫ কোটি ৪৭ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৩৮১ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৫২ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রবি’র শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার। ৩১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ব্র্যাক ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, ইস্টার্ন ব্যাংক, এসিআই এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১২৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৩টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
এমএএস/এমএমকে