এলপিজির দাম আগের পর্যায়ে ফেরার আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১২ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

দেশের এলপিজি বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম আগের নির্ধারিত পর্যায়ে ফেরার আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 

তিনি বলেন, ভোক্তারা যেন সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি পান, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। বাজারে অস্থিতিশীলতা দূর করতে নজরদারি বাড়ানো হবে। ভোক্তা পর্যায়ে কেউ যেন বিড়ম্বনার শিকার না হয় বা কেউ মার্কেট অ্যাবিউজ করতে না পারে- সেজন্য আগামী দিন থেকে আমরা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নজরদারি বাড়াবো। 

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এলপিজির বর্তমান বাজারমূল্য ও সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে এলপিজি আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ সভা হয়।   

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এলপিজি সংক্রান্ত বেশ কিছু খবর এসেছে গত কিছুদিন ধরে। অ্যাপারেন্টলি এলপিজির কিছু গ্যাপ আছে- এরকম গণমাধ্যমে এসেছে। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য যেটি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য এক হাজার ৩৫৬ টাকা, সেটি বিভিন্ন জায়গায় তার থেকে বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে এমন সংবাদ এসেছে।  

তিনি বলেন, আগামী দিনে যেন এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকে এবং খুচরা পর্যায়ে কোনো ধরনের অসহনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, বাজার স্থিতিশীল থাকে সেই উদ্দেশ্যে আমরা এলপিজি আমদানিকারক এবং সরকারের বিভিন্ন সহায়ক সংস্থা যারা আমরা ফ্যাসিলিটেট করি, রেগুলেট করি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ তাদেরকে নিয়ে আমরা বসেছিলাম। এখানে আমরা একটি মিনিংফুল আলোচনা করেছি।

মন্ত্রী আরও বলেন, যারা এই খাতের সঙ্গে জড়িত তারা কতগুলো বাস্তব সমস্যা তুলে ধরেছেন। আমরা সেটার নোট নিয়েছি এবং সেগুলো আগামী দিনে যতটুক সম্ভব সমাধান করে তারা যাতে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারেন সে জন্য আমরা সচেষ্ট থাকবো।  

আরও পড়ুন
গভর্নরের বিদায় নিয়ে ‘কিছুই বলার নেই’ অর্থমন্ত্রীর 
এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমলো 

এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কি আগের পর্যায়ে থাকবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখানে যারা আছেন তারা আমদানিকারক বা যাদের বোটলিং প্লান্ট আছে। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে অনেক সময় যারা রিটেইল সেল করেন তারা পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এর সঙ্গে আমদানিকারকের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ভোক্তা পর্যায়ে যেন এমন বিড়ম্বনার শিকার না হতে হয় বা কেউ মার্কেট অ্যাবিউজ করতে না পারে, সেজন্য আগামী দিন থেকে আমরা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নজরদারি বাড়াবো।  

সেক্ষেত্রে কি দাম আগের জায়গায় যাবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগের জায়গায় আসবে। একটা জিনিস কী আমদানি পর্যায়ে মূল্যের ক্ষেত্রে যারা আমদানিকারক তারা কতগুলো যুক্তি উত্থাপন করেছেন। যেটি তাদের ব্যবসা সচল রাখার প্রয়োজনে প্রাইস রিভিউয়ের কথা তারা বলেছেন। এটি হচ্ছে তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে। এটি কোনো মুখের কথা না। তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে যদি তাদের কথাটা সমর্থনযোগ্য হয়, বিবেচনাযোগ্য হয় তাহলে সেটা তো বিবেচনা করতেই হবে। কেউ তো আর লোকসান করে ব্যবসা করবে না। 

এলপিজির দাম কি তাহলে বাড়ছে ? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্ন উত্তরে তিনি বলেন, না না, এই মুহূর্তে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেই। 

এলপিজি জন্য ৩৩টি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেওয়া আছে। সেখানে দেশের ১০টি কোম্পানি প্রায় ৭০ শতাংশ মতো আমদানি করে। বাকি কোম্পানিগুলো আমদানি করার ক্ষেত্রে আপনার কোনো ধরনের সহযোগিতা বা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একটা জিনিস হলো ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক অপারেটর নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে, এটা ঠিক। অনেক আমদানিকারক নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। এটি মার্কেট শূন্যতার একটা উপাদান। পুরাটা না, একটা উপাদান। দ্বিতীয়ত হলো আমাদের আমদানি কারকরা প্রায় স্পট মার্কেট থেকে কেনেন। ফিউচার কন্ট্রাক্টে যান না। এজন্য মার্কেট ভলেটিলিটি তাদেরকে অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় করে আবার নিষ্ক্রিয় করে। আর তৃতীয়ত হচ্ছে অনেকের অনেক ক্ষেত্রে বড় বড় ব্যবসা আছে। ব্যাংকের সিঙ্গেল এক্সপোজাল লিমিট তাদের অনেকের জন্য একটা অন্তরায়। এসব বিষয় আমাদের সামনে এসেছে। এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করবো আগামী দিন।

বিপিসির স্টোরেজ নিয়ে করা প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, আমাদের অন্য বেসরকারি খাতের আমদানিকারকরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারা বলেছেন যে এই মুহূর্তে যদি বিপিসি নিজেই আমদানি করতে চায় সেক্ষেত্রে তারা তাদের স্টোরেজ ফ্যাসিলিটিটা ব্যবহার করতে দেবেন। আমরা এটিকে সাধুবাদ জানাই।

এমএএস/কেএসআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।