এফএএস ফাইন্যান্সের শেয়ারে ১৭ কার্যদিবসে মুনাফা তিনগুণ
দেশের শেয়ারবাজারে হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে যেন এক রূপকথার গল্প। লোকসানে ডুবে থাকা এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের শেয়ার একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে হয়ে গেছে বিনিয়োগকারীদের কাছে ‘আলাদিনের চেরাগ’-এর মতো। মাত্র ১৭ কার্যদিবসের মধ্যে শেয়ার দাম বেড়ে প্রায় তিনগুণ হয়েছে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ছিল ১ টাকা ৩০ পয়সা। সেখানে থেকে টানা উত্থান শুরু হয়। ১৬ মার্চ এসে প্রতিটি শেয়ারের দাম দাঁড়ায় ৩ টাকা ৭০ পয়সায়। অর্থাৎ এক মাসের কম সময়ে শেয়ারপ্রতি দাম বেড়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা। এ সময়ে শেয়ারবাজারে লেনদেন হয়েছে ১৭ কার্যদিবস। এই ১৭ কার্যদিবসে শেয়ারমূল্য বেড়ে হয়েছে ২ দশমিক ৮৫ গুণ।
শুধু গত ১৭ কার্যদিবস নয়, প্রায় দুই মাসের বেশি সময় ধরে কোম্পানিটির শেয়ার দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এতে দুই মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়ে প্রায় ৯ গুণ হয়েছে। শতাংশের হিসাবে দাম বেড়েছে ৭৮০ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
মুনাফা কেমন
কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগ করে কেমন মুনাফা পাওয়া গেছে, তা বোঝার জন্য একটি উদাহরণই যথেষ্ট। কেউ যদি জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে কোম্পানিটির ১০ লাখ টাকার শেয়ার কিনতেন, তাহলে দুই মাসের মাথায় এখন সেই বিনিয়োগের বাজার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৮ লাখ ৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ, ১০ লাখ টাকায় দুই মাস বিনিয়োগ করেই মুনাফা হয়েছে ৭৮ লাখ ৯ হাজার টাকা।
আর যদি কোনো বিনিয়োগকারী ১৯ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির ১০ লাখ টাকার শেয়ার কেনেন, তাহলে তার বাজারমূল্য এখন ২৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। এ হিসাব ১৭ কার্যদিবসে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে মুনাফা হয়েছে ১৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। এটা অনেকটাই রূপকথার আলাদিনের চেরাগের মতোই।
কোম্পানির আর্থিক অবস্থা কেমন
শেয়ার দামে এমন উত্থান হলেও কোম্পানিটির আর্থিক ভিত্তি বেশ দুর্বল। দীর্ঘদিন ধরেই লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারছে না। এ কারণে এটি শেয়ারবাজারের পচা ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির তালিকায় রয়েছে।
সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৯৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৫ টাকা ২৪ পয়সা। অর্থাৎ লোকসানের পরিমাণ সামান্য কিছুটা কমেছে, তবে এখনো বড় লোকসানের মধ্যে রয়েছে কোম্পানিটি।
অতীতে অবশ্য কোম্পানিটি কিছু লভ্যাংশ দিয়েছিল। ২০১৮ সালে ৫ শতাংশ, ২০১৭ সালে ১০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৫ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। কিন্তু ২০১৮ সালের পর থেকে আর কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়নি।
শেয়ারের এই অস্বাভাবিক উত্থানের আগে ছিল তীব্র পতনের ইতিহাসও। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ৪ টাকা ৭০ পয়সা। সেখান থেকে ক্রমাগত পতনে তা নেমে আসে মাত্র ৪২ পয়সায়। এরপরই শুরু হয় হঠাৎ এই উল্লম্ফন। শেয়ার দামে উল্লম্ফন হলেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে এখনো কোনো সতর্কবার্তা জারি করা হয়নি।
২০০৮ সালে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১৪৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের সংখ্যা ১৪ কোটি ৯০ লাখ ৭৭ হাজার ৩৬৪টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ার, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭৭ দশমিক ১২ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
এমএএস/এমকেআর