হাজার কোটি টাকা ছাড়ালো লেনদেন, পতনে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান
সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকংশ প্রতিষ্ঠান দাম কামার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। এরপরও কিছুটা বেড়েছে প্রধান মূল্যসূচক। একই সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে এক হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। কিন্তু দুপুর ১২টার পর ঢালাও দরপতন দেখা দেয়। তবে এর মধ্যেও বড় মূলধনের কিছু প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার প্রবণতা ধরে রাখে। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পরও প্রধান মূল্যসূচক সামান্য বেড়ে লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৯০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৫১টির। এছাড়া ৫৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গত দুইদিন ধরে দাম বাড়ার তালিকায় দাপট দেখানো বিমা খাতেরও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। বিমা খাতের ৫৮ কোম্পানির মধ্যে ১৩টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪১টির শেয়ারের দাম কমেছে এবং ৪টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫৭টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১৬টির দাম কমেছে এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১৮ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬০টির এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৫টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৫টির এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে একটির দাম বেড়েছে, ১৬টির দাম কমেছে এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
আরও পড়ুন
শর্তসাপেক্ষে এক মাসের উৎসাহ বোনাস দিতে পারবে ব্যাংক
অডিটের জন্য আরও ৭২৩৪১ আয়কর রিটার্ন নির্বাচন করলো এনবিআর
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় পরও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩০৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় এক পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৫৪ পয়েন্টে নেমে গেছে।
মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৫৬ কোটি এক লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৭০ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৮৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার। ৩৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- লাভেলো আইসক্রিম, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, একমি পেস্টিসাইড, খান ব্রদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং জি-কিউ বলপেন।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২৬ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১৩টির এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
এমএএস/কেএসআর