বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বাণিজ্য চুক্তির প্রতি জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০০ পিএম, ০২ মে ২০২৬

বৈশ্বিক সংকট, পরিবর্তিত বাণিজ্যনীতি ও ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ সংকট মোকাবিলায় বাণিজ্য চুক্তির প্রতি জোর দেন তারা।

শনিবার (২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং অ্যান্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এক্সিবিশনের (বিটিকেজি) সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব বিষয়ে কথা বলেন।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) ও ইনফোরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি লিমিটেড যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও কাঠামোগত দুর্বলতা শিল্পখাতে আর্থিক চাপ আরও বাড়াবে। প্রধান রপ্তানি বাজারগুলো থেকে ভবিষ্যৎ ক্রয়াদেশ হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করবে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই বাজার বৈচিত্র্যকরণ, দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য চুক্তি এবং জ্বালানি ও আর্থিক সক্ষমতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন বলে মত দেন তারা।

‘ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল সংকট: আরএমজি শিল্পে প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনারে ইউরোচেম বাংলাদেশ চেম্বারের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) শুরু করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর যদি স্থায়ী বাজার সুবিধার বিকল্প না থাকে, তবে তা বড় ধরনের ধাক্কা হবে।

লোপেজ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘করপোরেট সাসটেইনেবিলিটি ডিউ ডিলিজেন্স ফ্রেমওয়ার্ক’ ২০২৪ সাল থেকে কার্যকর হয়েছে এবং ২০২৭–২৮ সালের মধ্যে তা সরবরাহকারীদের ওপরও প্রযোজ্য হবে।

যদিও আইনগত দায়ভার ক্রেতাদের ওপর, বাস্তব প্রয়োগের চাপ সরবরাহকারীদের ওপর পড়বে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এটি আর কেবল কাগজে-কলমে সম্মতির বিষয় নয়। করপোরেট গভর্ন্যান্স, মালিক ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা এখন অপরিহার্য।

তিনি প্রস্তুতকারকদের আগাম প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুরো ব্যয় কারখানাগুলো একা বহন করতে পারবে না। ক্রেতা, সরকার ও উৎপাদকদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি প্রয়োজন, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নীতিগত ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ন্যাশনাল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রিয়াদ মাহমুদ বলেন, শিল্পখাতটি এখন একাধিক কাঠামোগত ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। আমদানিনির্ভরতা ও বৈশ্বিক সংকট উৎপাদন ব্যাহত করছে এবং শ্রমনির্ভর খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ভবিষ্যৎ রপ্তানি অর্ডার কমিয়ে দিতে পারে, ফলে কারখানাগুলো অপ্রতুল ব্যবহার ও আর্থিক চাপের মুখে পড়বে।

‘এই বাস্তবতা উপেক্ষা করা যাবে না। এর সম্মিলিত প্রভাব শিল্প ও ব্যাংকিং খাত উভয়কেই দুর্বল করবে,’ বলেন তিনি।

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের পরিচালক আখতার হোসেন আপুর্ব বলেন, বর্তমান সংকট সাময়িক নয়, বরং এটি একটি স্থায়ী কাঠামোগত পরিবর্তন। সরবরাহ ব্যবস্থা, মজুত ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন কৌশল প্রয়োজন।

গত ২৯ এপ্রিল শুরু হওয়া চারদিনের এ মেলায় প্রায় ২৮টি দেশের ৯০০-এর বেশি প্রদর্শক অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ছিল কানাডা, চীন, তাইওয়ান, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

মেলায় প্রায় ১২শ স্টলে টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত যন্ত্রপাতি, ডাই ও কেমিক্যালস, নিটিং ও উইভিং প্রযুক্তি, এমব্রয়ডারি, কাটিং-সেলাই এবং ওয়াশিং ও ড্রাই ক্লিনিং সমাধান প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রাশেদ। উপস্থিত ছিলেন ইনফোরচেইন সিইও স্পেন্সার লিন।

আইএইচও/এএসএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।