গার্মেন্টস খাতের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা অনেক উজ্জ্বল: বাণিজ্যমন্ত্রী 

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৩:৫৭ পিএম, ১৬ মে ২০২৬
‘গ্র্যান্ড লঞ্চিং ইভেন্ট অব টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির/ছবি: জাগো নিউজ

দেশের বর্তমান মাথাপিছু আয় ও মোট জিডিপির অবস্থান বিবেচনায় টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা অনেক উজ্জ্বল বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিল্পখাতকে আরও উদ্ভাবনী ও পণ্যের বহুমুখীকরণে জোর দিতে হবে।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ান ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘গ্র্যান্ড লঞ্চিং ইভেন্ট অব টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা  বলেন।

অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ, একাডেমিয়া, উদ্ভাবক এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে উদ্ভাবনকে একটি মৌলিক সক্ষমতায় রূপান্তর করা।

এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো শিল্পখাতে উদ্ভাবনকে একটি পরিমাপযোগ্য, তথ্যভিত্তিক এবং ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নযোগ্য চর্চা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এ জন্য কারখানা, একাডেমিয়া, প্রযুক্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, গবেষক এবং বৈশ্বিক অংশীজনদের মধ্যে আরও শক্তিশালী সহযোগিতা গড়ে তোলা। হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে হলে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং পণ্য বৈচিত্র্যের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, সাস্টেইনেবিলিটি এখন আর কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি শিল্পের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ টিকে থাকার অপরিহার্য শর্ত।

তিনি বলেন, আমাদের তৈরি পোশাক রপ্তানি মূলত আট-নয়টি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরির মধ্যে আটকে আছে। অনেক জায়গাতেই পর্যাপ্তভাবে প্রবেশ করতে পারিনি। যেমন স্পোর্টসওয়্যার, ম্যানমেড ফাইবার এবং টেকনিক্যাল টেক্সটাইল—এই সেক্টরগুলোতে আমাদের উপস্থিতি এখনো সীমিত। গ্লোবাল আরএমজি বাজারের আকারের তুলনায় আমাদের অবস্থান এখনো খুবই ছোট।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই মুহূর্তে যদি বাংলাদেশ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন করে এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে কোনো কার্যকর এফটিএ না হয়, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের থ্রেশহোল্ডের কারণে আমাদের বর্তমান রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এদিকে আমাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম ও ভারত—দুই দেশই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা পাচ্ছে। তাই আমাদের জন্য ডাইভার্সিফিকেশন অত্যন্ত জরুরি। শুধু নতুন শিল্পখাতে নয়, বর্তমান আরএমজি শিল্পের মধ্যেও নতুন প্রোডাক্ট লাইনে যেতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা যদি বর্তমান অবস্থাতেই সন্তুষ্ট থাকি, তাহলে সেই সন্তুষ্টি খুব বেশি দিন উপভোগ করা যাবে না। যারা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না, তারা স্বাভাবিক নিয়মেই পিছিয়ে পড়ে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

টেক্সটাইল এমন একটি শিল্প, যেটি সবসময় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। পৃথিবীর প্রায় সব উন্নত দেশ—আমেরিকা, জাপান, জার্মানি—শিল্পায়নের শুরু করেছে টেক্সটাইল খাত দিয়ে। কারণ তুলনামূলক কম পুঁজিতে এই খাতে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করা যায়—বলেন তিনি।

আইএইচও/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।