এ কী হালে চলছে গ্রামীণ ব্যাংক!


প্রকাশিত: ০৮:২৬ এএম, ২৭ জুন ২০১৫

নোবেলজয়ী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক এ কী হালে চলছে? গত অক্টোবর মাসের পর থেকে ব্যাংকটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম পরিচালনা পর্ষদের কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। অর্থাৎ গত নয় মাস গেছে কোনো ধরনের পর্ষদ সভা ছাড়াই।

ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আটকে আছে বা নেওয়া যাচ্ছে না। এর সঙ্গে নতুন বিপাক, গত ফেব্রুয়ারিতে নয়জন বোর্ড সদস্যের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাদের স্থলে নতুন কোনো পরিচালক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি আজও।

জানতে চাইলে গ্রামীণ ব্যাংকের অন্যতম পরিচালক ও ঋণ গ্রহীতা নারীদের প্রতিনিধি তাহসিনা খাতুন সম্প্রতি টেলিফোনে জাগো নিউজকে বলেন, গত অক্টোবর মাসের পর আমাদের কোনো বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। এভাবে একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলতে পারে, প্রশ্ন রাখেন তাহসিনা খাতুন।

তিনি বলেন, বিষয়টির সুরাহার জন্য আমি গত এপ্রিলে উচ্চ আদালতে একটি রিটও দায়ের করেছি। উচ্চ আদালত থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জবাব চাওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কৌশলে সময় ক্ষেপণ করছেন।

তিনি আরো বলেন, আইন মোতাবেক নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা পরিচালক থাকার কথা। কিন্তু আমাদের দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না।

তবে আর্থিক সূচকে দেখা গেছে, ব্যাংকের স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি আগের মতোই রয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে নতুন বিপাক তৈরি হয়েছে গত ফেব্রুয়ারির পর। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন সংকট। এই ব্যাংকের তিন বছর মেয়াদি ১২ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের নয়জনেরই মেয়াদ শেষ হয়েছে।

তবে মেয়াদ শেষ হওয়া পরিচালকরা ব্যাংকের পর্ষদের আগামী বৈঠকে অংশ নিতে পারবেন কি-না, তা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। জানা গেছে, সরকার নির্বাচনের নতুন পরিচালক চূড়ান্ত করতে চেয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন পরিচালক নিয়োগ অনিশ্চিত।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান জাগো নিউজকে বলেন, পর্ষদ নিয়ে বিভ্রান্তি সরকার নিজেই তৈরি করেছে। আমি সব সময় যে কথা বলে আসছি, গ্রামীণ ব্যাংকের পর্ষদ নিয়ে যে আইন-কানুন করা হয়েছে, তাতে গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যদের গ্রহণযোগ্য মতামত নেওয়া হয়নি। এটি কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বলছে, সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গত বছরের ৬ এপ্রিল ‘গ্রামীণ ব্যাংক (পরিচালক নির্বাচন) বিধিমালা’ প্রণয়ন করে। ছয় মাস, অর্থাৎ গত ৬ অক্টোবরের মধ্যে ভোটের মাধ্যমে সরকার ব্যাংকটির পরিচালক নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংককে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এ কাজ করতে রাজি হয়নি।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তাই আমরা এই দায়িত্ব নিতে রাজি হইনি।

সরকার আদেশ জারি করে গত নভেম্বরে বিধিমালা সংশোধন করে বাংলাদেশ ব্যাংককে এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। সংশোধিত বিধিমালায় বলা হয়, তিন সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচন অনুষ্ঠানটি করে দেবে। এর মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত একজন জেলা জজ হবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। কমিশনার হবেন দুজন; রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকে কর্মরত একজন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) এবং পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান মনোনীত পিকেএসএফেই কর্মরত একজন ডিএমডি।

বাস্তবে এখন পর্যন্ত সরকার নির্বাচন কমিশনই গঠন করতে পারেনি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচন করে দেওয়ার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার হতে কোনো অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজই রাজি হচ্ছেন না।

জানা গেছে, ৮৬ লাখ গ্রাহকের গ্রামীণ ব্যাংকের ১২ সদস্যের পর্ষদের মধ্যে চারজন হলেন সরকারের নিয়োগ করা। পর্ষদের প্রধান ব্যক্তি চেয়ারম্যান খন্দকার মোজাম্মেল হক পৌনে দুই বছর আগে পদত্যাগ করেছেন। যদিও সরকার তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি বলে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের একাধিকবার জানিয়েছেন।

অন্য সদস্য হলেন এসএম মহিউদ্দিন, যিনি ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারের নিয়োগ দেওয়া বাকি দুই পরিচালক হচ্ছেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সুরাইয়া বেগম ও আইএফআইসি ব্যাংকের এমডি শাহ আলম সারোয়ার। আর নয়জন নারী সদস্য হলেন চট্টগ্রামের সাজেদা বেগম, সিলেটের মোছাম্মদ সুলতানা বেগম, কুমিল্লার রেহানা আক্তার, গাজীপুরের সালেহা খাতুন, দিনাজপুরের পারুল বেগম, বগুড়ার মেরিনা আক্তার, পটুয়াখালীর মোমেনা খাতুন, যশোরের শাহিদা আক্তার এবং ময়মনসিংহের তাহসিনা খাতুন।

গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ থেকে বয়সের কথা বলে গ্রামীণ ব্যাংকেরই প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরিয়ে দেয় সরকার। এ নিয়ে দেশে ও বিদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। ড. ইউনূস ও গ্রামীণের সব প্রতিষ্ঠানের ওপর একটি তদন্ত কমিশনও গঠন করে সরকার।

এসএ/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।