লাখ টাকার খাট

মেসবাহুল হক
মেসবাহুল হক , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১০ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮
লাখ টাকার খাট

মনের মতো সাজানো-গোছানো একটি বেডরুম কার না পছন্দ। নিজের মতো করে এটি সাজাতে চান সবাই। সঙ্গে যদি একটু আভিজাত্যের পরশ বুলিয়ে দেয়া যায়, তাহলে তো কথাই নেই। নিজ ঘরে নেমে আসে স্বর্গীয় সুখ।

এবারের বাণিজ্য মেলায় সেই স্বর্গীয় সুখ দিতে নান্দনিক নকশা আর মানসম্মত আসবাবপত্র নিয়ে এসেছে দেশের বিভিন্ন নামিদামি প্রতিষ্ঠান। এসব আসবাবপত্রের মধ্যে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যে বিভিন্ন ধরনের শোয়ার খাট পাওয়া যাচ্ছে। এসব খাটের চাহিদাও বেশ।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চলমান মাসব্যাপী ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ঘুরে দেখা গেছে, নতুন নতুন ডিজাইনের সর্বনিম্ন ১৫ হাজার আর সর্বোচ্চ এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের খাট নিয়ে এসেছে পারটেক্স, হাতিল, নাভানা, আকতার, রিগ্যালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের নান্দনিক প্যাভিলিয়নে পাওয়া যাচ্ছে আকর্ষণীয় সব খাট।

পারটেক্স প্যাভিলিয়নে সবচেয়ে বেশি মূল্যের খাটের বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানির ম্যানেজার (রিটেইল সেলস) অশোক কুমার বলেন, আমাদের প্যাভিলিয়নে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার এবং সর্বোচ্চ এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের খাট রয়েছে। সর্বোচ্চ মূল্যের খাটটির নাম দেয়া হয়েছে ‘কুইন বেড’। এর পুরোটাই মেহগনি কাঠ দিয়ে তৈরি। এতে আনা হয়েছে নান্দনিক ডিজাইন ও আভিজাত্যের মিশ্রণ। দৈর্ঘ্য সাত ফুট ও প্রস্থ ছয় ফুটের এ খাট ক্রয় করলে দেয়া হচ্ছে এক বছরের সার্ভিসিং ওয়ারেন্টি।

অন্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে- রাজধানীর মধ্যে হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা, বিভিন্ন ব্যাংকের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য কিনলে রয়েছে আলাদা মূল্যছাড়।

এতো দামি খাটের চাহিদার বিষয়ে অশোক কুমার বলেন, বাণিজ্য মেলায় সব ধরনের লোকের সমাগম ঘটে। এ ধরনের দামি খাটের চাহিদা বেশ। মেলা থেকে ইতোমধ্যে কয়েকটি খাট বিক্রি হয়েছে। অনেকে দেখে যাচ্ছেন, পরে তারা অর্ডার দেবেন।

আকতার ফর্নিচারের প্যাভিলিয়নে রয়েছে সর্বোচ্চ এক লাখ চার হাজার টাকা মূল্যের খাট। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি ম্যানেজার বলেন, এটি তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে মেহগনি কাঠ ও প্লাই উড। এর ফিনিসিংটা দারুণ। মেহগনি কাঠের ওপর সোনালী রঙের হাতের কারুকাজ। ক্রেতাদের এটি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
খাটসহ আকতার ফার্নিচার সব পণ্যে দিচ্ছে ১২ শতাংশ ছাড়। সঙ্গে হোম ডেলিভারির সুযোগ।

ব্যবসায়ী মঈনুল হোসেনকে এখানে বিভিন্ন আসবাবপত্রের বিষয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জিজ্ঞাসা করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, এতোদিন বাবার সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে ছিলাম। এখন ভিন্ন ফ্ল্যাটে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ কারণে ফার্নিচার প্রয়োজন। আপাতত দুটি খাট নিতে চাই। টাকা বিষয় নয় একটু দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্মত হতে হবে।

হাতিল ফর্নিচার প্যাভিলিয়নে ৮০ হাজার ৬০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ মূল্যের খাট। তবে মেলার জন্য মূল্যছাড় দিয়ে রাখা হচ্ছে ৭৭ হাজার ৪০০ টাকা। খাটটির বিশেষত্ব হলো এটি ফোল্ডিং করা যায়। প্রস্থে ইচ্ছামতো চার ফুট অথবা বাড়িয়ে পাঁচ ফুটও করা যায়। ফোল্ডিং অবস্থায় এটি টেবিল হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

হাতিলের ডিপুটি ম্যানেজার লায়লা ইশরাত জাহান রুশি বলেন, ফ্লোরের সর্বাধিক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এর ডিজাইন করা। খাটটি ক্রেতাদের মনে বেশ ধরেছে। তবে এটির বিক্রির অবস্থা ভালো নয়।

প্রসঙ্গত, দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বর্তমানে বিশ্বের ১৬টি দেশে বছরে প্রায় পাঁচশ কোটি টাকার ফার্নিচার রপ্তানি করছে বাংলাদেশ।

এমইউএইচ/এমএআর/জেএইচ/আইআই