শিক্ষার্থীদের মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৩ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০১৮

যান্ত্রিক নগরবাসীকে এক স্থান থেকে সংসারের যাবতীয় পণ্য কেনার পাশাপাশি বিনোদনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন স্টল দিয়ে বসেছে, তেমনি রয়েছে বিনোদনের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা।

রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বিচরণ, বানোরের বাদরামি, লেকের পাড়ে কুমিরের ঘাপটি মেরে বসে থাকার দৃশ্য নিয়ে আছে সুন্দরবন। শিশুদের জন্য রয়েছে শিশু পার্ক, যেখানে বিভিন্ন রাইডে অংশগ্রহণ করতে পারছে শিশুরা। আছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ও তার জীবনী নিয়ে নানা তথ্য। লেকের ভেতরে নৌকা ভেসে থাকার দৃশ্যও রাখা হয়েছে ২৩তম বাণিজ্য মেলায়।

এছাড়া রয়েছে মেলার আয়োজক রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর উদ্যোগে তৈরি বেশকয়েকটি ফুলের বগান। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্টল সাজিয়েছে বাহারি সাজে। সঙ্গে রাখা হয়েছে বিনোদনের বিভিন্ন ব্যবস্থা। ফ্রি গেম খেলার সুযোগ, রঙিন পানির ফোয়ারা, ফেসবুকে লাইক দিয়ে গিফট পাওয়ার সুযোগও আছে।

fair

কেনাকাটার পাশাপাশি এমন বিনোদনের সুযোগ থাকায় প্রতিদিন নানা বয়সের হাজার হাজার দর্শনার্থী ছুটে আসছেন বাণিজ্য মেলায়। তাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও। ক্লাস অথবা কোচিংয়ের চাপ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজের ড্রেস পরে মেলায় ঘুরতে আসছে। বিশেষ করে সকালের দিকে মেলায় শিক্ষার্থীদের পদচারণা বেশি দেখা যাচ্ছে।

মেলায় অবস্থিত কৃত্রিম সুন্দরবনের সামনে সেলফি তুলতে দেখা যায় তিন শিক্ষার্থীকে। মিরপুরের একটি স্কুলের শিক্ষার্থী মায়মন আক্তার বলে, কোচিং করতে এসেছিলাম। কিন্তু স্যার আজ পড়াবেন না। এ সুযোগে বন্ধুরা মিলে মেলায় ঘুরতে এসেছি। কিছু কেনার ইচ্ছা নেই। শুধু ঘোরাঘুরি করবো। আর কিছু ছবি তুলবো।

‘আমি সরাসরি কখনো সুন্দরবন দেখিনি। ঢাকা জাদুঘরে কৃত্রিম সুন্দরবন দেখেছি। আর এখানে দেখলাম। আসল না হলেও সুন্দরবন দেখতে খুব ভালো লাগছে। বিশেষ করে বাঘের সামনে বানোর যেভাবে গাছের ডাল ধরে ঝুলে আছে- এ দৃশ্য আমার খুব ভালো লেগেছে।’

fair

পরপর দুটি ক্লাস হবে না। এ কারণে ফার্মগেটের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ বান্ধবী ঘুরতে এসেছে মেলায়। তাদের একজন মিথিলা। বলে, প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় পেয়েছি। এ কারণে মেলায় আসা। ক্লাস শুরু হওয়ার আগে আবার স্কুলে ফিরে যাব।

রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী মো. রোমেল বলে, বাসা থেকে একটু আগেই বের হয়েছি। কলেজে গিয়ে শুনি ক্লাস শুরু হতে আরো দেড় ঘণ্টা সময় লাগবে। মেলার মাঠ কাছে, তাই চলে এলাম। ক্লাস শুরু হওয়ার আগে কলেজে ফিরবো।

মেলায় ঘুরতে কেমন লাগে- প্রশ্ন করা হলে সে জানায়, ঢাকা শহরে ঘোরাঘুরির তেমন উন্মুক্ত পরিবেশ নেই। এ কারণে এখানে আসা। দেখারও অনেক কিছু আছে। সকালে মেলা প্রাঙ্গণ একটু ফাঁকা থাকে। তাই সুযোগ পেলে এখানে চলে আসি।

এমএএস/এমএআর/আইআই

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]