প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তার কোনো সেবা নয়
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কোনো সেবা ভবিষ্যতে আর ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়া দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, বাজেটে সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি কিংবা কঠোর মিতব্যয়িতা নয়, বরং অপচয় রোধ করাই হবে সরকারের লক্ষ্য। একইসঙ্গে এলটিইউ নির্ভর কর আদায়ের ‘রোগ’ থেকেও এনবিআরকে বের হয়ে আসতে হবে।
বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘লুকিং ইনটু বাংলাদেশ’স ডেভেলপমেন্ট: প্রায়োরেটি ফর দ্যা নিউলি ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট ইন দ্যা শর্ট টু মিডিয়াম টার্ম’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিপিডি ও ডেইলি স্টার যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজীজ রাসেল, ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম, বেসিসের সাবেক সভাপতি ও বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) ভাইস চেয়ারম্যান ড. সিদ্দিক আহমেদ, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালা, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ভবিষ্যতে কোনো সেবা ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়া দেওয়া হবে না। আমাদের কোনো সেবা আর ভবিষ্যতে হবে না, যেটা ডিজিটাল মাধ্যম না।
তিনি জানান, সরকার ‘ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’-এর দিকে যাচ্ছে ও এর মূল ভিত্তি হবে ইন্টার-অপারেবিলিটি। অর্থাৎ সব সেবা ও ডাটাবেইস একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে—ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড। যার ফলে লিকেজ করা যাবে না।
আরও পড়ুন
ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর না হলে অর্থনীতি ভালো হবে না
রাশেদ আল মাহমুদ আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বর্তমানে তিনটি বড় সমস্যা রয়েছে— যার থাকার কথা ছিল, তিনি তালিকাভুক্ত হননি (এক্সক্লুশন এরর)। যার থাকার কথা ছিল না, তিনি তালিকাভুক্ত হয়েছেন (ইনক্লুশন এরর)। কর্মসূচিগুলোর ছড়ানো ও খণ্ডিত অবস্থা (ফ্র্যাগমেন্টেশন)। ডিজিটাল কার্ড ও একক সনাক্তকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে এসব সমস্যা দূর করা সম্ভব।
ভাতা ও সামাজিক সুরক্ষায় সংস্কার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, প্রলম্বিত মূল্যস্ফীতির কারণে মধ্যবিত্ত নিম্ন মধ্যবিত্তে, আর নিম্ন মধ্যবিত্ত দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যা নারীকেন্দ্রিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে। সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আমাদের সর্বজনীন করতে হবে। আমরা টার্গেট থেকে সর্বজনীনের দিকে যাচ্ছি।
কর ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের একটা রোগ ছিল—এলটিইউ দিয়ে ট্যাক্স আদায় করা। এটা একটা মহাব্যাধি।’ তিনি বলেন, ‘সীমিত সংখ্যক বড় করদাতার ওপর নির্ভর করে রাজস্ব আহরণ টেকসই নয়। কর সংস্কৃতির বিস্তার ঘটাতে হবে এবং কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে।’
বর্তমান আর্থিক বাস্তবতায় সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি (এক্সপ্যানশনারি ফিসকাল পলিসি) নেওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা। একই সঙ্গে কঠোর মিতব্যয়িতাও (অস্টেরিটি) সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘এখানে একটাই উপায় আছে—অপচয় রোধ করা।’
বিদ্যুৎ খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকিকে ‘অসহনীয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি টেকসই নয়। এ ক্ষেত্রে চুক্তি পুনঃআলোচনা, সিস্টেম লস কমানো এবং দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
ইএইচটি/এমএমএআর