থাই শোপিসে বিরক্ত দর্শনার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৭ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০১৮

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অবস্থিত বিদেশি প্যাভিলিয়নগুলোতে শোপিসের আকাশচুম্বী মূল্য হাঁকা হচ্ছে। বিশেষ করে থাই প্যাভিলিয়নের স্টলগুলোতে পণ্য কিনতে গিয়ে বিরক্ত ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা।

মানের দিক থেকে খুব একটা উন্নত না হলেও দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় তিন-চারগুণ বেশি দাম চাচ্ছেন থাই প্যাভিলিয়নে স্টল দিয়ে বসা ব্যবসায়ীরা। এমন দাম চাওয়ার কারণে বিদেশি প্যাভিলিয়নগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতও কম।

শুক্রবার ও আজ (শনিবার) মেলার সব স্টল যেখানে ক্রেতা-দর্শনার্থীতে টুইটুম্বুর সেখানে অনেক বিদেশি প্যাভিলিয়ন ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিশেষ করে শোপিসের স্টলগুলো। যেসব দর্শনার্থী এসব স্টলে আসছেন তারা শোপিসের মূল্য শুনেই চলে যাচ্ছেন।

থাই প্যাভিলিয়নের এক স্টলে ভ্যানিটি ব্যাগসহ নারীদের বিভিন্ন সামগ্রীর পাশাপাশি শোপিসও বিক্রি হচ্ছে। স্টলে প্রদর্শিত প্লাস্টিকের একটি পুতুলের দাম জানতে চাইলে সুমন নামের বিক্রয়কর্মী বলেন, একদাম এক হাজার ২০০ টাকা।

প্লাস্টিকের পুতুরের এতো দাম! পুতুলের কোনো বিশেষত্ব আছে? এমন প্রশ্ন করা হলে সুমন বলেন, এর কোনো বিশেষত্ব নেই। এটি দেখতে সুন্দর। থাইল্যান্ড থেকে আনা। থাইল্যান্ডের শোপিস পুতুলের এমনই দাম।

পাশের স্টলে কাঠের টুকরার ওপর প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি করা কলাগাছসহ বিভিন্ন শোপিস বিক্রি হচ্ছে। এখানে শোপিসের দাম জানতে চাইলে আলম নামের বিক্রয়কর্মী বলেন, কলাগাছের মূল্য ৮০০ টাকা। অন্য গাছগুলোর মূল্যও এমন-ই। এছাড়া বিভিন্ন শোপিস ফুল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ২০০ টাকার নিচে আমাদের কোনো শোপিস নেই- যোগ করেন তিনি।

jagonews24

শোপিসের এতো দাম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব গাছ বা ফুল যদি অর্জিনাল (আসল) হতো তাহলে দাম কম হতো? শোপিসের দাম বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক। এখানে প্রদর্শিত সব শোপিস বিদেশ থেকে আনা। এ কারণে পণ্যের দাম একটু বেশি।

প্যাভিলিয়নটিতে ঘুরতে আসা ধানমন্ডির রাফিয়া আক্তার বলেন, এখানে শোপিসের অস্বাভাবিক দাম। যেসব শোপিস বিক্রি হচ্ছে তার সবকিছুই নিউ মার্কেটে পাওয়া যায়। অথচ নিউ মার্কেটের থেকে চার-পাঁচগুণ বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। মেলায় দাম একটু বেশি হতে পারে, তবে এতো… মোটেও উচিত নয়!

আজিমপুর থেকে আসা এলিনা বলেন, একটা শোপিস পুতুলের মূল্য চাওয়া হচ্ছে হাজার টাকার ওপরে। অথচ এসব পুতুল নিউ মার্কেটে অহরহ পাওয়া যায়। দাম বড়জোর দেড়শ টাকা। দেড়শ টাকার শোপিস যদি হাজার টাকা চাই তাহলে কেমন লাগে বলেন?

এমএএস/এমএআর/বিএ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :