রাজনৈতিক অস্থিরতার আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা

মো. শফিকুল ইসলাম
মো. শফিকুল ইসলাম মো. শফিকুল ইসলাম , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২০ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় আবারও আতঙ্কে পড়েছেন দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা। খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে কী ঘটবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এ মহল।

জানা গেছে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় হবে। ওই রায়কে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এ রায় দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যাওয়ার আশঙ্কায় রাজপথে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। অন্যদিকে বিএনপির আন্দোলনকে প্রশাসনিকভাবে মোকাবেলার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দেশের বড় দুই দলের মুখোমুখি এ অবস্থানের কারণে আবারও অস্থির হতে পারে দেশ। ফলে আতঙ্কে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহন ব্যবসায়ী, হকার ও শ্রমিকরা সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হন, যা থেকে বাদ পড়ে না সাধারণ ভোক্তারাও। তাই রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতার আশঙ্কায় ব্যবসায়ী মহলে আবারও ভীতি দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে এর প্রভাব পড়েছে দেশের শেয়ারবাজারেও।

এদিকে একজন শিল্প উদ্যোক্তার সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা রয়েছে। এ নিয়ে আমরা ব্যবসায়ীরা অনেকটা আতঙ্কে আছি। রাজনৈতিক এ অস্থিরতায় ব্যবসা-বাণিজ্য কীভাবে সামাল দেব তাই এখন চিন্তার বিষয়। আমরা এখন পরবর্তী পরিবেশ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে হরতাল অবরোধে যে ক্ষতি হয়েছে তা গত দুই বছরেও পুষিয়ে নিতে পারিনি। এ বছর নির্বাচনের বছর। রাজনৈতিক অঙ্গন অস্থির থাকবে। ব্যবসায় টিকে থাকা এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

দেশের রাজনৈতিক ঘটনা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিরোধী দলগুলোর নেয়া সর্বশেষ কঠিন কর্মসূচি হরতাল। আর হরতাদের নামে হয় জ্বালাও-পোড়াও এবং ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি। এতে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যবসায়ীসহ সব ধরনের মানুষ। তাই রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে হরতালকেই বেশি ভয় পায় সাধারণ মানুষ। দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার একাধিক গবেষণা অনুযায়ী, এক দিনের হরতালেই ক্ষতি হয় অন্তত দেড় হাজার কোটি টাকা। আর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাত হচ্ছে পোশাক শিল্প, ক্ষুদ্র উদ্যোগ এবং পরিবহন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘৮ ফেব্রুয়ারি কোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে একটি ঘটনা আছে। তবে কোর্টের কাজ কোর্ট করবে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড রাজনীতিবিদরা করবে। আর আমরা ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করব।’তিনি বলেন, রাজনীতি ও অর্থনীতি একটি আরেকটির পরিপূরক। তাই রাজনীতি অস্থির হলে অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়ে। তবে সাধারণ মানুষ এখন আর হরতাল, জ্বালাও- পোড়াও পছন্দ করে না। এখনও অনেক মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে। তাই হরতালকে আর অস্ত্র বানানো যাবে না। শীর্ষ ব্যবসায়ীদের এ নেতা বলেন, এখন মানুষের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আশা করছি রাজনীতিতেও গুণগত পরিবর্তন আসবে। ব্যবসায়ীরা শান্তি মতো ব্যবসা করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) এর সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, এখন ব্যবসা করা কঠিন। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। ঋণের সুদহারও ঊর্ধ্বমুখী। কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস বা ব্যবসার ব্যয় বেড়ে গেছে। ফলে বিশ্ব বাজারে টিকে থাকা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন অবস্থায় রাজনৈতিক পরিবেশ খারাপ হলে ব্যবসা বাণিজ্য আরও চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়বে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দেশে রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল রয়েছে। সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিবেশ স্থিতিশীল থাকবে এটাই আমরা চাই।

এদিকে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে নানান গুজবে আস্থাহীনতার মধ্যে রয়েছে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরাও। ফলে টানা দরপতনে আবারও বিপর্যয় নেমে এসেছে শেয়ারবাজারে। গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে, যার নেপথ্যে রয়েছে দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতার গুজব। তাদের মতে, ওই রায়ের পর অস্থির হয়ে উঠবে দেশ। এমন গুজবে বেশির ভাগ ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে আতঙ্কে রয়েছে বিনিয়োগকারীরা। সবার প্রশ্ন কী হবে ৮ তারিখে।

এ বিষয়ে ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক বলেন, পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিছক গুজবের কারণে হয়েছে। অতীতে বহু রাজনৈতিক ঘটনা নিয়ে অনেক গুজবের ঘটনা ঘটেছে। তবে এবারের ঘটনা একটু বেশি ভীতি সৃষ্টি করেছে। বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। ভয়ে আপনারা শেয়ার বিক্রি করবেন না। নির্দিষ্ট সময়ের পর এ পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

এসআই/ওআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :