খেলাপি ঋণ : ভালো উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে নিরুৎসাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:১০ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা, যা কি না ব্যাংক হতে প্রদত্ত ঋণের প্রায় ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। খেলাপি ঋণের এ অবস্থার কারণে দেশের ভালো উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আবুল কাসেম খানের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। এসময় ডিসিসিআইর নেতারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান, চেইঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাডভাইজর আল্লাহ মালিক কাজেমি, প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. ফয়সাল আহমেদ এবং ব্যাংকিং রিফর্ম অ্যাডভাইজর এ কে সুর চৌধুরী।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, বিদ্যমান ঋণের উচ্চহারের ফলে উদ্যোক্তারা আশানুরূপ নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত হচ্ছেন না। তাই বিনিয়োগে অর্থপ্রাপ্তির সহজীকরণের লক্ষ্যে পুঁজিবাজারে ‘বিনিয়োগ বন্ড’ ছাড়ার বিকল্প নেই। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি সহায়ক উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), বাংলাদেশ সিকিউরিটজ এক্সচেঞ্জ কমিশিন (বিএসইসি), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), ইন্সুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অথরিটি এবং সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়াতে হবে।

ডিসিসিআইর এই সভাপতি বলেন, দেশের এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের সিঙ্গেল ডিজিটি ঋণ প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও মনোযোগী হওয়ার দরকার।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা, যা কি না ব্যাংক হতে প্রদত্ত ঋণের প্রায় ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং এ বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। খেলাপি ঋণের এ অবস্থার কারণে দেশের ভালো উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোর আরও সক্রিয় হওয়া এবং বৃহৎ ঋণ প্রকল্পগুলোর এডিআর (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) ধারা বাধ্যতামূলক রাখার প্রস্তাব করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান অর্থ সংকট খুবই সাময়িক এবং স্বল্প সময়ে এ সমস্যার সমাধান হবে। বিদেশ হতে অবৈধ পথে রেমিট্যান্স আসার বিষয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক হতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যার ফলে সাম্প্রতিক ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রবাহের পরিমাণ বেড়েছে।

তিনি বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। অবকাঠামোসহ অন্যান্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রবাহ নিশ্চিতকরণের জন্য পুঁজিবাজারে বন্ড প্রবর্তনের বিষয়টি একটি ভালো উদ্যোগ হতে পারে।

তিনি দেশের উদ্যোক্তাদের লাভজনক বৃহৎ প্রকল্প নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং এক্ষেত্রে অর্থায়নের কোনো সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস দেন।

মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম, এফসিএ, সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেন, পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আকবর হাকিম, হোসেন এ সিকদার, হুমায়ুন রশিদ, কে এম এন মঞ্জুরুল হক, নূহের লতিফ খান, সেলিম আকতার খান, ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী এবং মহাসচিব এ এইচ এম রেজাউল কবির বক্তব্য দেন।

ডিসিসিআই পরিচালক আন্দালিব হাসান, ইমরান আহমেদ, মো. আলাউদ্দিন মালিক, ইঞ্জিনিয়ার মো. আল আমিন, মোহাম্মদ বাশীর উদ্দিন এবং এস এম জিল্লুর রহমান এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এমএ/জেডএ/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :