নির্বাচনী বছরে যাকাতের পোশাকে ভালো ব্যবসার আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৩৮ পিএম, ২৭ মে ২০১৮
পীর ইয়ামেনী মার্কেটের এই দোকানে বিক্রি করা হয় যাকাতের লুঙ্গি

নির্বাচনী বছর হওয়ায় এবার যাকাতের পোশাকের ব্যবসা গত কয়েক বছরের তুলনায় ভালো হবে এমন আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে মাসের মাঝামাঝি সময়ে রমজান শুরু হওয়ায় একে একে ১০ রোজা চলে গেলেও রাজধানীতে জমে ওঠেনি যাকাতের পোশাকের বাজার। আগামী মাসের শুরু থেকে বিক্রি জমজমাট হয়ে ওঠবে বলে প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সাধারণত ৫ রোজার পর থেকেই যাকাতের পোশাক বিক্রি শুরু হয়ে যায়। এবার প্রথম ১০ রোজায় কিছু পোশাক বিক্রি হয়েছে, তবে মূল বিক্রি এখনো শুরু হয়নি। মাস শেষে চাকরিজীবীদের হাতে বেতনের টাকা আসলে মূল বিক্রি শুরু হবে। সে হিসেবে এবার যাকোতের পোশাক বিক্রি জমে উঠবে ১৫ রোজার পর।

তারা বলেন, গত কয়েক বছর ধরে যাকাতের পোশাক ব্যবসায় কিছুটা মন্দা যাচ্ছে। তবে আশা করছি এবার পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কারণ এ বছরই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা দান-খয়রাত কিছুটা হলেও বেশি করবেন। আর যাকাতের কাপড় দিয়ে সহজেই সাধারণ মানুষের মন জয় করা যায়।

বাজার ঘুরে জানা গেছে, এবার যাকাতের যেসব শাড়ি বিক্রি হচ্ছে তার মধ্যে নিম্নমানের শাড়ির দাম প্রতিপিস ২৬০-২৮০ টাকা। এর থেকে একটু ভালোমানের শাড়ির দাম ৩২০-৩৫০ টাকা। আর যাকাতের স্ট্যান্ডার্ডমানের শাড়ির দাম ৪০০-৪৫০ টাকা। তবে এর থেকে বেশি দামের শাড়িও যাকাতের শাড়ি হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে।

অপরদিকে নিম্নমানের লুঙ্গির দাম প্রতিপিস ১৮০-২২০ টাকা। এর থেকে ভালোমানের লুঙ্গির দাম ৩০০-৩৫০ টাকা। এই লুঙ্গিগুলোই যাকাতের কাপড় হিসেবে সব থেকে স্ট্যান্ডার্ডমানের। তবে ক্রেতারা চাইলে যাকাতের পোশাক হিসেবে এর থেকে বেশি দামের লুঙ্গিও কিনতে পারেন।

রাজধানীতে যাকাতের পোশাক যেকয়টি মার্কেটে পাইকারি বিক্রি হয় তার মধ্যে অন্যতম গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে অবস্থিত পীর ইয়ামেনী মার্কেট। এই মার্কেটটির নিচতলায় (আন্ডারগ্রাউন্ডে) শতাধিক প্রতিষ্ঠান যাকাতের শাড়ি, লুঙ্গি পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে।

mediaপীর ইয়ামেনী মার্কেটের এই দোকানে বিক্রি করা হয় যাকাতের শাড়ি। এখনো তেমন ক্রেতা পাচ্ছেন না দোকানিরা।

মার্কেটটিতে দীর্ঘদিন ধরে যাকাতের শাড়ি ও লুঙ্গি পাইকারি বিক্রি করে এমন একটি প্রতিষ্ঠান স্বর্ণলতা শাড়ি বিতান। এই প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয়কর্মী মো. সেলিম বলেন, ‘আমাদের কাছে ২৬০-১২০০ টাকা দামের যাকাতের শাড়ি পাওয়া যাবে। আর লুঙ্গি আছে ২২০-৫০০ টাকা দামের। তবে ৩৫০-৪০০ টাকা দামের শাড়ি এবং ৩০০-৩৫০ টাকা দামের লুঙ্গি যাকাতের জন্য স্ট্যান্ডার্ডমানের।’

বিক্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাধারণত রোজার প্রথম থেকেই যাকাতের পোশাক বিক্রি শুরু হয়ে যায়। তবে এবার সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না। এর প্রধান কারণ হতে পারে এবার রোজা শুরু হয়েছে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। যে কারণে যারা যাকাত দেবেন তাদের হাতে মজুত অর্থ হয় তো সেভাবে নেই। আমরা আশা করছি মাস শেষে বেতনের টাকা হাতে আসলে যাকাতের পোশাক বিক্রি বেড়ে যাবে।’

পীর ইয়ামেনী মার্কেটে যাকাতের লুঙ্গি বিক্রির প্রতিষ্ঠান সেলিম লুঙ্গি স্টোরের বিক্রয়কর্মী ফজর আলী। তিনি বলেন, ‘আমরা যাকাতের লুঙ্গি একদামে বিক্রি করি। যাকাতের লুঙ্গি নিয়ে কোনো দামা-দামি করি না। আমাদের কাছে ১৮০-৩৫০ টাকা দামের লুঙ্গি আছে। আগ্রহীরা সর্বনিম্ন ১০ পিস লুঙ্গি কিনতে পারবেন। আর ঊর্ধ্বে যত খুশি নিতে পারবেন, কোনো সমস্যা নেই।’

এই বিক্রয়কর্মী আশা করছেন এ বছর বিক্রি বেশি হবে। কারণ হিসেবে তিনি বললেন, ‘এ বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই আমরা আশা করছি এবার যাকাতের পোশাক ভালো বিক্রি হবে। কারণ যাকাতের পোশাক দান করাও রাজনীতিকদের নির্বাচনী প্রচারণার একটি অংশ। তবে যাকাতের পোশাক এখনো সেভাবে বিক্রি শুরু হয়নি। আমরা আশা করছি ১৫ রোজার পর শুরু হবে মূল বিক্রি।

mediaপীর ইয়ামেনী মার্কেট। ‌যাকাতের লুঙ্গি পাওয়া যায়,' সাইনবোর্ড সামনে রেখে বসে আছেন দোকানিরা।

এবার যাকাতের পোশাক বিক্রি বাড়বে এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়ে সুগন্ধা লুঙ্গি বিতানের মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘চলতি মাস শেষ হতে মাত্র কয়েকদিন আছে। মাস শেষ হলেই চাকরিজীবীদের হাতে বেতনের টাকা আসবে। এরপরই যারা যাকাত দেবেন তারা পোশাক কেনা শুরু করবেন। সুতরাং সামনে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই যাকাতের পোশাক বিক্রি বেড়ে যাবে, যা চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত।’

তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে যাকতের পোশাকের ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে। গত বছরও যাকাতের পোশাক খুব কম বিক্রি হয়েছে। তবে নির্বাচনের বছর হওয়ায় এবার আমরা আশা করছি ভালো বিক্রি হবে।’

লাইব্বাইক হাউসের মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যাকাতের পোশাকের মধ্যে শুধু শাড়ি বিক্রি করি। আমাদের কাছে ২৮০-৪৫০ টাকা দামের শাড়ি আছে। রোজার প্রথম থেকে টুকটাক বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে ১৫ রোজার পর বিক্রি বাড়বে। রোজার প্রথমদিকে যে বিক্রি হয়েছে, তাতে আমরা আশা করছি এবার ভালোই বিক্রি হবে। গতবছরের তুলনায় এবার বিক্রি তুলনামূলক বেশ ভালো।’

এমএএস/জেডএ/এমএস

যাকাতের পোশাক দান করাও রাজনীতিকদের নির্বাচনী প্রচারণার একটি অংশ