চট্টগ্রামের বাজারে শীতের আগাম সবজি, দামও চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১১:৩৬ এএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
পালং শাকক্ষেতে আগাছা পরিষ্কার করছেন কৃষকরা

ভারি বর্ষণে দুই দফা জলাবদ্ধতার পরও চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় শীতকালীন শাকসবজির আগাম আবাদ ভালো হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে আগাম শীতকালীন শাকসবজি। ইতোমধ্যে সল্প পরিমাণে হাট-বাজারেও আসতে শুরু করেছে এ রবিশস্য।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম রবিশস্য (শীতকালীন শাকসবজি)। প্রতিকূল পরিবেশে চাষাবাদ কিছুটা কম হলেও দাম ভালো পাওয়ায় চাষি ও বিক্রেতারা খুশি।

শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নগরীর বহদ্দারহাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে নতুন আসা ফুলকপি প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাঁধাকপি ৬০ টাকা, বরবটি ৫০, কাকরোল ৪৫, ওলকচু ৫০, ঢেঁড়স ৫০, তিতকরলা ৭০, টমেটো ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৬০ থেকে ৭০, গাজর ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ছোট বেগুন ও শিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। ধুন্দল, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিতে। হাইব্রিড বেগুন ৫০ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, লাউ ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, শীতকালীন নতুন শাকসবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি। এসব সবজি বিক্রি করে কৃষক ও খুচরা বিক্রেতা উভয়ই লাভবান হচ্ছেন। পুরোপুরি ভাবে বাজারে শীতের সবজি আসতে আরো এক থেকে দেড় মাস অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, হাটহাজারী, রাউজান, পটিয়াসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপকভাবে মূলা, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, ঢ্যাড়স, লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক চাষ শুরু হয়েছে আরো মাস দেড়েক আগ থেকেই। এ বছর জেলার অন্তত ১০ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের আগাম শাকসবজি চাষ হয়। তবে বেসরকারিভাবে লক্ষ্যমাত্রা আরও বেশি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চাষিরা শীতের সবজির চারা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কেউ সবজির চারা খেতে লাগাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ খেত আগাছামুক্ত করছেন।

কৃষকরা বলছেন, শীতকালীন শাকসবজি আগাম বাজারে তুলতে পারলে অধিক টাকা পাওয়া যাবে-এই আশাই তারা সবজি চাষে ব্যস্ত।

হাটহাজারী উপজেলার উত্তর ফতেয়াবাদ গ্রামের চাষি জসিম উদ্দিন জাগো নিউজকে জানান, তার তিন গোণ্ডা জমি রয়েছে। পুরো জমিতেই তিনি বিভিন্ন ধরনের শীতের সবজি চাষ করছেন। শ্রমিকের মজুরি বেশি, তাই ছেলেমেয়েদের নিয়ে সবজি চাষে নেমে পড়েছেন।

আরেক চাষি মাহমুদ বলেন, এবার ২০ শতাংশ জমিতে ফুলকপির চাষ করছি। শীতের আগে শীতকালীন সবজি বাজারে তোলা গেলে চাহিদা বেশি থাকে। ফলে সেগুলোর দামও বেশি পাওয়া যায়। আশা করছি, শীত আসার আগেই সবজি বাজারে তুলতে পারব।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আমিনুল হক চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, এবারের রবি মৌসুমে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে শাকসবজি চাষাবাদ হচ্ছে। তবে দুই দফা ভারি বৃষ্টির কারণে তা আগের বছরের তুলনায় কম। বেশি লাভের আশায় চাষিদের বিশেষ নজর থাকে শীতকালীন সবজি আগাম আবাদের দিকে।

এনডিএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]