সঞ্চয়পত্রে ৯ মাসে লক্ষ্যের দেড়গুণ বিনিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:২০ পিএম, ২১ মে ২০১৯

দেশে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বেড়েই চলছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই’২০১৮-মার্চ’২০১৯) সঞ্চয়পত্র থেকে নেট (প্রকৃত) বিনিয়োগ এসেছে ৩৯ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা। যা অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার দেড়গুণ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা ও পুঁজিবাজারে আস্থাহীনতাসহ নানা কারণে সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া ব্যাংক আমানতের সুদের চেয়ে এখনও দ্বিগুণ বেশি মুনাফা মিলছে সঞ্চয়পত্রে। ফলে বিত্তশালী থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত সবাই ঝুঁকছেন সঞ্চয়পত্রে। সব মিলিয়ে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বেড়েছে।

জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, সরকার চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১২ মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। এর মধ্যে জুলাই-মার্চ সময়ে ঋণ এসেছে ৩৯ হাজার ৭৩৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১৫২ শতাংশ। সব মিলিয়ে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা।

এদিকে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়। এছাড়া নজরদারিও বাড়ানো হয়। তবে বিভিন্ন শর্ত অরোপ করার পরও সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেনি।

প্রাপ্ত তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে বিভিন্ন জাতীয় সঞ্চয়স্কিমে নেট বিনিয়োগ আসে ৪ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। যা গত বছর (২০১৮) মার্চে ছিল ৩ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে গত বছর মার্চের তুলনায় চলতি বছরের মার্চে নেট বিনিয়োগ বেড়েছে ৫৪১ কোটি টাকা।

আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় সঞ্চয় স্কিমে বিনিয়োগকৃত অর্থের ওপর একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর মুনাফা দেয় সরকার। মেয়াদপুর্তির পরে বিনিয়োগকৃত অর্থও ফেরত দেয়া হয়। প্রতিমাসে বিক্রি হওয়া সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে প্রাপ্ত বিনিয়োগের হিসাব থেকে আগে বিক্রি হওয়া স্কিমগুলোর মূল ও মুনাফা বাদ দিয়ে নেট ঋণ হিসাব করা হয়। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা প্রয়োজন অনুযায়ী বাজেটে নির্ধারিত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নেট বিনিয়োগকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

জানা গেছে, অটোমেশনে ন্যাশনাল আইডিকার্ডের সঙ্গে লিংক রয়েছে। তাই কেউ সীমার অতিরিক্ত সঞ্চয়পত্র কিনছে কি না সেটি সহজেই ধরা পড়বে। একই সঙ্গে কালো টাকা বিনিয়োগরোধে ৫০ হাজার টাকার বেশি কেউ সঞ্চয়পত্র কিনতে চাইলে তাকে চেকের মাধ্যমে টাকা প্রদান করতে হবে।

প্রাথমিকভাবে এ অটোমেশন (অনলাইন) পদ্ধতি বাংলাদেশ ব্যাংকে ও সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখা, জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতরের ব্যুরো অফিস (গুলিস্তান) এবং বাংলাদেশ পোস্ট অফিসের প্রধান কার্যালয়ে চালু হয়েছে। শিগগিরই সব অফিসে অনলাইন নিশ্চিত করা হবে যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে সঞ্চয়পত্রে সাধারণ মাানুষের বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রা বাজারে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে বলে মনে করে মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ অবস্থায় সঞ্চয়পত্রের সুদহার যৌক্তিকীকরণে সরকার উদ্যোগ নিতে পারে।

কিন্তু তারপরও কমছে না সঞ্চয়পত্রের সুদ হার। সম্প্রতি এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, আগামী বাজেটে সঞ্চয়পত্রের সুদ হারে কোনো পরিবর্তন হবে না।

সবশেষ ২০১৫ সালের ১০ মে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদ হার গড়ে ২ শতাংশ কমানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেনি।

বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০১৫ সালের ২৩ মের পর থেকে এই হার কার্যকর আছে। এর আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ছিল ১৩ শতাংশেরও বেশি।

এসআই/এমএমজেড/এমকেএইচ