সাধ্যের বাইরে ‘বিলাসী’ বাজেট

মেসবাহুল হক
মেসবাহুল হক মেসবাহুল হক , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:০২ এএম, ১৪ জুন ২০১৯

>> রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়
>> ঘাটতি মেটাতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমার শঙ্কা
>> নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে নেই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা
>> কৃষি বীমা ও তরুণদের জন্য ‘বিশেষ ফান্ড’ প্রশংসনীয়
>> প্রস্তাবিত বাজেটে আয় ৩৭৭৮১০ কোটি টাকা
>> ব্যয় ৫২৩১৯০ কোটি, ঘাটতি ১৪৫৩৮০ কোটি টাকা

সাধ ও সাধ্যের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। তারপরও আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে রেকর্ড পরিমাণ অর্থাৎ পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বড় বাজেটের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রায় অসম্ভব রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৬১ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা বাড়িয়ে নতুন প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এটি পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে কমতে পারে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা দাঁড়ায় তিন লাখ ১৬ হাজার ৬১২ কোটি টাকায়।

আরও পড়ুন >>বাজেটের সাতকাহন

রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অধীন আয় তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এনবিআর-বহির্ভূত কর ব্যবস্থা থেকে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন সেবার ফি, হাসপাতালের টিকিট মূল্য, সেতুর টোলসহ বিভিন্ন খাত থেকে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।


অভ্যন্তরীণ আয়ের বাইরে আগামী অর্থবছরে বিদেশ থেকে চার হাজার ১৬৮ কোটি টাকা অনুদান পাওয়ার আশা করছে সরকার। অনুদান যেহেতু ফেরত দিতে হয় না, তাই এ পরিমাণ অর্থ পাওয়া গেলে মোট আয় দাঁড়াবে তিন লাখ ৮১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে চার হাজার ৫১ কোটি টাকা অনুদানের আশা করলেও বাজেট সংশোধনকালে তা কমিয়ে তিন হাজার ৭৮৭ কোটিতে নামিয়ে আনা হয়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গতানুগতকিভাবে অনেক বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে। এটাকে বলা যায়, সাধ্যের বাইরে ‘বিলাসী’ একটি বাজেট। শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে যে, বাস্তবায়নে বড় ধরণের একটা ঘাটতি রয়ে গেছে। প্রত্যেক বছরই এমন হয়। এক লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার যে ঘাটতি সেটা মোট ব্যয়ের প্রায় ২৮ শতাংশ। এ ঘাটতি পূরণ খুব কঠিন হয়ে যাবে আগামী বছরে।

প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বাংলাদেশের বাজেটের প্রধানতম ত্রুটি হচ্ছে, লক্ষ্যমাত্রা যা ধরা হয় তা বাস্তবায়ন হয় না। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে বিশেষ কোনো বার্তা নেই প্রস্তাবিত বাজেটে।

তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের যে স্থবিরতা তা দূরীকরণে সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই। ব্যাংক খাতের সমস্যা দূরীকরণে কোনো নির্দেশনা নেই। চতুর্থত, ক্রমবর্ধমান আয় বৈষম্য কমিয়ে আনা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সুস্পষ্ট কোনো বার্তা নেই।

আরও পড়ুন >> অসুস্থ অর্থমন্ত্রী, বাজেট উপস্থাপনে প্রধানমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, তবে এবারের বাজেটে ভালো একটি দিক হচ্ছে কৃষি বীমা এবং তরুণদের জন্য বিশেষ ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু দেখার বিষয় হচ্ছে, এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কীভাবে হয়।

প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী অর্থবছরের (২০১৯-২০) বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাবনা নেই।

তিনি বলেন, বাজেট উপস্থাপনায় নিঃসন্দেহে নতুনত্ব ছিল। আমরা সেটাকে স্বীকার করি, সেটাকে সাধুবাদ জানায়। কিন্তু প্রস্তাবনার ভেতরে সেই নতুনত্বের কতখানি উপস্থাপন হয়েছে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

দেবপ্রিয় বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বলেছেন, উনি বাস্তবতার নিরিখে একটি বাজেট তৈরি করতে চেয়েছেন, চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এখনও বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যায়নি। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা উনি ২২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে এনেছেন। কিন্তু প্রকৃত অর্থে এটা ৮৫ হাজার কোটি টাকা কম হবে বলে আমাদের বিবেচনায় আছে। এর ওপর আবার আগামী অর্থবছরের জন্য অনেক বেশি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটা সূচনা বিন্দুর বিবেচনায় ভ্রান্ত হয়ে গেল।’

প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘একটি ধারাবাহিক বাজেট’ বলে মন্তব্য করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। তাদের মতে, এ ধরনের বড় বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষতা উন্নয়ন একান্ত অপরিহার্য। একই সঙ্গে বাজেটে বড় রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা অর্জন চ্যালেঞ্জিং হবে।

আরও পড়ুন >> শিশু কল্যাণে ৮০ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রস্তাব

ঢাকা চেম্বার জানিয়েছে, বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরকে আদায় করতে হবে তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বিগত অর্থবছরের তুলনায় এত বড় রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সত্যিই চ্যালেঞ্জিং।

নতুন বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। ঘাটতি বাজেট পূরণে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অর্থায়ন করা হবে, যা সহনশীল বলে মনে করছে ডিসিসিআই। তবে এ জন্য বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ যেন কমে না যায় সেদিকেও সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে আয় বাড়াতে বাস্তবায়ন করা হবে নতুন ভ্যাট আইন। নতুন ভ্যাট আইন অনুযায়ী কৃষিপণ্যে ভ্যাট আরোপের সুযোগ নেই। তাই সব ধরনের কৃষিপণ্য ভ্যাট থেকে অব্যাহতি পাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য যেমন- ভোজ্যতেল, চিনি, গুড় ও লবণের ওপর কোনো ভ্যাট বসছে না। কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রাংশ ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশে ভ্যাট অব্যাহতি পাচ্ছে।

সব ধরনের মাংস, কাঁটা ছাড়ানো মাছ বাদে সব ধরনের মাছ, পোল্ট্রি ফিড ও গবাদিপশুর ভ্যাকসিনে ভ্যাট অব্যাহতি থাকছে। হস্তচালিত লন্ড্রি বা কাপড় ধোঁয়ার দোকানসহ আবাসিক হোটেলের লন্ড্রি ও ছোটখাট ব্যবসার জন্য দেড়শ বর্গফুট আয়তন পর্যন্ত সব ধরনের স্থাপনার ভাড়া ভ্যাটমুক্ত থাকছে। পর্যটন স্থাপনার টিকিটমূল্য ও জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে ভ্যাট আরোপ হচ্ছে না।

নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী। এরপরও ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে পণ্যমূল্য বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এরই মধ্যে প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু পণ্যের শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করায় সেসব পণ্যের দাম বাড়বে। দেশীয় শিল্প রক্ষায় যেসব পণ্যের আমদানি শুল্ক-কর বাড়ানো হয়েছে, সেগুলো হলো— গুঁড়ো দুধ, অপরিশোধিত চিনি, পরিশোধিত চিনি। প্রাকৃতিক মধুর আমদানি শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।

অলিভ অয়েলে আমদানি শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। ওভেন, বিভিন্ন ধরনের কুকার, কুকিং প্লেট, গ্রিলার, রোস্টারের সম্পূরক শুল্ক শূন্য থেকে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। স্মার্ট ফোনের শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। আইসক্রিমের ওপর ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। মোবাইল ফোনে কথা বলার খরচ বাড়ছে।

সয়াবিন তেল, পাম ওয়েল, সান ফ্লাওয়ার তেল, সরিষার তেলের আমদানি পর্যায়ের ওপর মূসক আরোপ করা হয়েছে। টিভি ও অনলাইনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সরবরাহকারী, স্থানীয় পর্যায়ে জ্যোতিষী ও ঘটকালিতে মূসক আরোপ করা হয়েছে। প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি তৈজসপত্র আমদানিতে মূসক আরোপ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন >> ৪৮ বছরের যত বাজেট

যাত্রীবাহী বাস, স্কুল বাস, ট্রাক-লরি, থ্রি হুইলার ও অ্যাম্বুলেন্স ব্যতীত সব প্রকার গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিট, ফিটনেস সনদ, মালিকানা সনদ নবায়ন ও গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিশোধিত চার্জের ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টারের সম্পূরক শুল্ক বেড়েছে। আমদানি করা মোটরসাইকেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব করণে জনগণের ওপর তো একটু চাপ পড়বেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বড় আকারের বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আদায়ের ওপর জোর দেয়ার কথা বরবারই বলে আসছেন অর্থমন্ত্রী। তাই ১০ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দিয়ে ছয় মাসে নতুন ৮৫ লাখ করদাতা খুঁজে বের করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। এতে করেও করের চাপ যে কিছুটা বড়বে- এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যয়ের খাত

পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার মধ্যে নতুন অর্থবছরের পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা, যা আগে অনুন্নয়ন ব্যয় হিসেবে উল্লেখ করা হতো। এর মধ্যে সরকারের আবর্তক ব্যয় দুই কোটি ৭৭ লাখ ৯৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধে ৫২ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে চার হাজার ২৭৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এছাড়া সরকারের মূলধন খাতে ৩২ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

নতুন অর্থবছরে উন্নয়ন খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। সেখান থেকে ইতোমধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাবদ দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকা ব্যয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল (এনইসি)। এছাড়া এডিপিবহির্ভূত বিশেষ প্রকল্প, স্কিম ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে বাকি অর্থ ব্যয়ের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

আরও পড়ুন >> হুইল চেয়ারে বাজেট অধিবেশনে মুহিত

সাধারণত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অবকাঠামোর সংস্কার কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে সরকার। এ খাতে নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে দুই হাজার ১৮৪ কোটি টাকা।

ঘাটতি অর্থায়ন

অনুদান না পেলে নতুন বাজেটে ঘাটতি দাঁড়াবে (অনুদান ব্যতীত) এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এটি মোট দেশজ উৎপাদনের পাঁচ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে, কোনো দেশের বাজেট ঘাটতি পাঁচ শতাংশের মধ্যে থাকলে তা ঝূঁকিপূর্ণ নয়। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এক লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছিল, যা ছিল জিডিপির ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। রাজস্ব আয় কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় অর্জন না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি বাড়িয়ে এক লাখ ২৫ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা ধরা হয়, যা জিডিপির পাঁচ শতাংশ। তবে বিদেশি অনুদান পাওয়া গেলে নতুন অর্থবছরে ঘাটতি দাঁড়াবে এক লাখ ৪১ হাজার ২১২ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

এ ঘাটতি মেটাতে বিদেশ থেকে ৭৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সেখান থেকে বিদেশি ঋণ পরিশোধে ব্যয় হবে ১১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। অর্থাৎ নতুন অর্থবছরে নিট বৈদেশিক ঋণ নেয়া হবে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। বাকি ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা দেশের ভেতর থেকে ঋণ নেয়া হবে, যার মধ্যে তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংক খাত থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

চলতি অর্থবছর ব্যাংক খাত থেকে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৩০ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

এছাড়া ব্যাংক-বহির্ভূত খাত থেকে নিট ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়া হবে, যার মধ্যে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে তিন হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য থাকলেও উচ্চ সুদহারের কারণে মানুষ এ খাতে বেশি বিনিয়োগ করেছে। ফলে সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়।

জিডিপির প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি

নতুন বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। চলতি অর্থবছর ধরা হয় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে এ প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করেন অর্থমন্ত্রী। নতুন অর্থবছরের জন্য আকার প্রাক্কলন করা হচ্ছে ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। এছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম কম থাকবে। ফলে অন্যান্য পণ্যের দাম কিছুটা নিম্নমুখী থাকবে। এদিক বিবেচনায় নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

এমইউএইচ/এমএআর/এমআরএম