মার্কোসারভুক্ত দেশগুলোর সাথে এফটিএ শিগগিরই : বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৫৩ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০১৯

দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্যিক জোট মার্কোসারভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে শিগগিরই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেন, এফটিএর জন্য মার্কোসারভুক্ত চারটি দেশ ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয় ও উরুগুয়ের সম্মতি প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বরে তারা একটি সভা করে আমাদের প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। আশা করছি সেখান থেকে আমরা ইতিবাচক ফল পাবো। এই চুক্তির মাধ্যমে ৩৫ শতাংশ উক্ত শুল্কহার হ্রাস করলে তৈরি পেশাকসহ ঔষধ, তামাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, টেবিল ওয়্যার প্রভৃতি পণ্য রফতানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মার্কোসারভুক্ত দেশসমূহ সফর নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্য সিনিয়র সচিব মফিজুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বিজিএমইএরর প্রেসিডেন্ট ড. রুবানা হক উপস্থিত ছিলেন।

বানিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের এ সফরের মূল উদ্দেশ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) বিষয়ে সদস্যভুক্ত দেশসমূহের সমর্থন আদায় ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উন্নয়ন। এ সফরে চারটি দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীবর্গ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ বিষয়ে ১৭টি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ অর্থনীতি ব্রাজিলের সাঁও পাওলোতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে একটি সেমিনারে অংশ নিয়েছি। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মার্কোসার সাথে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রতিটি দেশ এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানায় এবং যথাসময় এ বিষয়ে কারিগরি আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দেয়।

তিনি আরও বলেন, সফরকালে দেশগুলোর বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ সফরে বিজিএমইএ ও ব্রাজিলের সর্ববৃহৎ ব্যবসা সংগঠন সাঁও পাওলো চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তুলা রফতানিকারকদের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতামুলক স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে একমত হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর ১৯৯২ সালে ব্রাজিল আরোপিত এন্টি ডাম্পিং ডিউটি প্রত্যাহারের বিষয়টি ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

টিপু মুনশি বলেন, ব্রাজিলের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে আগামী ৭ থেকে ৮ নভেম্বর সাঁও পাওলোতে একক দেশ হিসেবে তৈরি পোশাক নিয়ে একটি মেলা ও ফ্যাশন শো আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় এ মেলার লিড দিবে এফবিসিসিআই। মেলায় তৈরিপোশাকসহ সব ধরনের পণ্য প্রদর্শিত হবে। এছাড়া পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট খাতসমূহ চিহ্নিত করতে আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ের সাথে আলাদাভাবে দুটি যৌথ কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের মতৈক্য হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ব্রাজিল সরকারের কাছে চলমান ৩৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক সহনীয় পর্যায়ে বা শুল্কমুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। উচ্চহারে আমদানি শুল্ক থাকার কারণে বাংলাদেশ আশানুরূপ তৈরি পোশাক ব্রাজিলে রফতানি করতে পাচ্ছে না। শুল্ক কমানো হলে ব্রাজিলের মানুষ কম মূল্যের বিশ্বমানের বাংলাদেশের তৈরী পোশাক ক্রয় করতে পারবেন। তৈরি পোশাক রফতানিতে বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে বাংলাদেশ বিশ্বমানের তৈরি পোশাক উন্নত বিশ্বে রফতানি করছে।

এছাড়া বিদ্যমান আমদানি শুল্কহার কমাতে ব্রাজিলের ব্যবসায়ীদেরও প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ব্রাজিল সরকারের সাথে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে এ আমদানি শুল্কহার কমানো সম্ভব। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য ব্রাজিলের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গত ২০ থেকে ২৪ আগস্ট দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্যিক জোট মার্কোসার (ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ের সমন্বয়ে গঠিত বাণিজ্যিক জোট) সফর করেন। সফররত ১৫ সদস্যের বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের প্রতিনিধি, বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক, বিকেএমইএর প্রতিনিধি, ঔষধ শিল্পের প্রতিনিধি, ঢাকা চেম্বার অফ কমার্সের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ প্রতিনিধি দলে ছিলেন।

এমইউএইচ/এমএসএইচ/জেআইএম