বাণিজ্য মেলায় মানবতার সেবায় রক্তদান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:১৪ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় প্রতিবারের মতো এবারও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করেছে। মানবতার সেবায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থাটির রক্তদান কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ গ্রুপ।

মাসব্যাপী ২৫তম বাণিজ্য মেলায় রেড ক্রিসেন্টের কর্মসূচি চলছে মূল ফটক দিয়ে সামনে পশ্চিম পাশে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের পেছনে।

মেলায় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহিদা পারভিন জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিবারের মত এবারও মেলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ। মেলায় মানবতার সেবায় যারা রক্তদান করছেন তাদের রক্ত বিনা মূল্যে পাঁচটি জরুরি পরিক্ষা করা হচ্ছে।

যেমন, রক্তের গ্রুপ, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, এইচআইভি এবং সিফলিস ভাইরাস আছে কি-না। পাশাপাশি রক্ত দাতার রক্তে এসব জীবাণু পাওয়া গেলে গোপনীয়তা রক্ষা করে পরামর্শ বা চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া যে স্বেচ্ছায় রক্তদান করছেন তাকে একটি আইডি কার্ড দেয়া হয়। কার্ডধারী ব্যক্তির কখনও প্রয়োজন পড়লে ফ্রি রক্ত দেয়া হবে।

Pran

শাহিদা পারভিন জানান, রক্ত দিলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না। ১৮-৬০ বছরের কমপক্ষে ৪৫ কেজি ওজন এমন প্রতিটি সুস্থ মানুষ চাইলেই স্বেচ্ছায় রক্তদান করতে পারেন। এক ব্যাগ রক্ত দিতে সময় লাগে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট। মেলাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি থেকে সংগৃহীত রক্ত মানবতার সেবায় ব্যবহার করা হয়।

বাণিজ্য মেলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান করতে আসা মাহবুব বলেন, মেলায় এসেছি ঘুরতে, কেনাকাটা করতে। এখানে রেড ক্রিসেন্ট রক্তদানের ব্যবস্থা রেখেছে দেখে রক্ত দিলাম।

এর আগে রক্ত দিয়েছে কি-না জানতে চাইলে মাহবুব জানান, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব অনেককেই রক্ত দিয়েছি। তবে রেড ক্রিসেন্টে এবারই প্রথম রক্ত দিলাম। কার কখন রক্তের প্রয়োজন হবে তা কেউ জানি না। আমার রক্তে একজন মানুষ সুস্থ হবে এটার চেয়ে বড় আনন্দ কী হতে পারে। এজন্যই রক্ত দিলাম। এ পর্যন্ত যে কয়েকবার রক্ত দিয়েছি কোনো সমস্যা হয়নি। তাই আমি মনে করি সুস্থ্য মানুষের নিয়মিত রক্ত দেয়া উচিত। এতে একজন অসহায় মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচে।

এসআই/এএইচ/পিআর