‘জেড’ কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকের শেয়ার বিক্রয়-হস্তান্তর বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৩ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২০

সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার বিক্রয়, হস্তান্তর ও প্লেজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ারে বিক্রয়, হস্তান্তর ও প্লেজ বন্ধ করার পাশাপাশি কমিশন বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি জানান, তালিকাভুক্ত ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানিগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি ও পরিচালনা পর্ষদের পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো মধ্যে রয়েছে-

>>> সকল স্পন্সর (উদ্যোক্তা) ও বর্তমান পরিচালকদের ধারণ করা শেয়ার বিক্রয়, হস্তান্তর-স্থানান্তর এবং প্লেজ বন্ধ থাকবে।

>>> ‘জেড’ গ্রুপে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর ছয় মাসের মধ্যে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে হবে।

>>> সকল ধরনের শেয়ার হোল্ডার মিটিং (এজিএম/ইজিএম) ই-ভোটিং/অনলাইন ভোটিংয়ের সুবিধা দিয়ে ডিজিটস প্লাটফর্মে অথবা হাইব্রিড সিস্টেমে করতে হবে।

>>> যে সকল কোম্পানি দুই বছর বা তার বেশি সময় ধরে ‘জেড’ গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত সেই কোম্পানিগুলোকে ৪৫ কর্মদিবসের মধ্যে চলমান বোর্ড পুনর্গঠন করতে ব্যর্থ হলে বর্তমান পরিচালক ও স্পন্সররা অন্য কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও পুঁজিবাজার মধ্যস্থতাকারী কোনো কোম্পানির পরিচালক হিসেবে থাকতে পারবেন না।

>>> কমিশন এক্ষেত্রে বিশেষ নিরীক্ষক ও কমিশন কর্তৃক পর্যবেক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে বোর্ড পুনর্গঠন করে ‘জেড’ গ্রুপে কোম্পানির সুশাসন নিশ্চিত করবে।

>>> পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ চার বছরের মধ্যে কোম্পানির সার্বিক অবস্থার উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হলে স্টক এক্সচেঞ্জ ওই কোম্পানিকে তালিকাচ্যুতিসহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

>>> এ বিষয়ে পূর্ববর্তী নোটিফিকেশন এবং আদেশ বাতিল করে শিগগির কমিশন একটি নোটিফিকেশন ইস্যু করবে।

কী কারণে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ‘জেড’ গ্রুপে চলে যাবে তার ক্ষেত্রেও নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ জন্য ২০১৩ সালের সেটেলমেন্ট অ্যান্ড ট্রানজেকশন বিধিমালা সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

যে কারণে ‘জেড’ গ্রুপে যাবে কোম্পানি-

>>> পরপর দুই বছরের মধ্যে নগদ লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হলে।

>>> পরপর দুই বছর বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজন করতে ব্যর্থ হলে।

>>> ছয় মাস বা বেশি সময় কোম্পানি উৎপাদন বা কার্যক্রম বন্ধ থাকলে।

>>> পরপর দুই বছর নিট কার্যকর লোকসান অথবা পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক থাকলে।

>>> তালিকাভুক্তি কোম্পানির পুঞ্জিভূত লোকসান তার পরিশোধিত মূলধনকে
অতিক্রম করলে।

>>> কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গের জন্য কমিশনের অনুমতিক্রমে স্টক এক্সচেঞ্জ ‘জেড’ গ্রুপে স্থানান্তর করতে পারবে।

>>> ‘জেড’ গ্রুপে লেনদেন হওয়া কোম্পানির সেটেলমেন্ট কার্যক্রমটি+৩-তে সম্পন্ন হবে।

এমএএস/এফআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]