গুলশান-বনানী-বারিধারার লেক উন্নয়নে খরচ বাড়ছে ১০৯১ শতাংশ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৬ পিএম, ২৯ অক্টোবর ২০২০

ঢাকা মহানগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি, অবৈধ দখল থেকে লেক উদ্ধারসহ বেশ কিছু উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ২০১০ সালে শুরু হয়েছিল ‘গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন’ প্রকল্পের কাজ। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালে, কিন্তু তা হয়নি। তারপর খরচ বাড়ানো ছাড়া এই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে চারবার। তবুও এ প্রকল্পের কাজ কাজ হয়নি।

পঞ্চমবারের মতো এবার চার বছর সময় বাড়িয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব এসেছে। এতদিন কেবল সময় বাড়ানোর দাবি করলেও এখন এর পাশাপাশি খরচ বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে। এক বা দুই শতাংশ নয়, এক হাজার ৯১ শতাংশ খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে!

প্রকল্পটির এতদিন বাস্তবায়নের খরচ ছিল ৪১০ কোটি ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা। এখন তা বাড়িয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে চার হাজার ৮৮৬ কোটি ১১ লাখ ৩২ হাজার টাকা!

প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) দেবে ১৫৮ কোটি ৫০ লাখ ২৫ হাজার এবং সরকার দেবে চার হাজার ৭২৭ কোটি ৬১ লাখ ৭ হাজার টাকা।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা রাজউক এমন খরচ ও সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কাছে।

রাজউক বলছে, ১৯৬১ সালে তৎকালীন ডিআইটি (বর্তমান রাজউক) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করে এবং একই সময়ে প্রায় এক হাজার একর জমি (বনানী-বারিধারা) আবাসিক ব্যবহারের জন্য উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়।

১৯৯২ সাল নাগাদ গুলশান মডেল টাউন এবং আংশিক বনানী ও বারিধারা আবাসিক এলাকার কার্যক্রম ‘এক হাজার একর ভূমি উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় শেষ হয়। তবে ২০০ একর এলাকা জুড়ে বিদ্যমান দুটি (বনানী ও গুলশানের মধ্যে একটি এবং গুলশান ও বারিধারার মধ্যে একটি) লেকের উন্নয়ন কাজ আজ পর্যন্ত হয়নি।

দীর্ঘদিন ময়লা আবর্জনা ও জৈব মাটি জমা হওয়ার ফলে লেকের পানি ধারণক্ষমতা ক্রমান্বয়ে কমেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে লেকের পানি ধারণক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও নগরবাসীর বিনোদন সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয় ২০১০ সালের জুলাইয়ে।

এই প্রকল্পে আগে যা ছিল তা সংশোধন করে ৮২ দশমিক ৫৬ একর জমি অধিগ্রহণ, ২০ হাজার ৫৫২ দশমিক ১৭ রানিং মিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ, তিন লাখ ৭৪ হাজার ৫৩১ দশমিক ১৩ ঘন মিটার মাটি ভরাট, ৩৭৩ দশমিক ৪৮ রানিং মিটার কজওয়ে নির্মাণ, পাঁচ হাজার ২১৮ দশমিক ৩২ রানিং মিটার ড্রাইভওয়ে নির্মাণ, দুই হাজার ৫০০ রানিং মিটার তীর সংরক্ষণ কাজ, ৬৯ হাজার ৬১ বর্গমিটার গ্রাস টার্ফিং, আট লাখ ৯২ হাজার ৭২৭ দশমিক ৪৪ ঘনমিটার লেক খনন, একশটি সীমানা পিলার নির্মাণ, চার হাজার গাছ রোপণ ও পরামর্শক সেবা গ্রহণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পাশাপাশি এই প্রকল্পে নতুন করে প্রস্তাব করা হয়েছে ১২ লাখ ৬০ হাজার ৮১৭ দশমিক ৬৫ ঘনমিটার স্লাজ অপসারণ, নয়টি ব্রিজ নির্মাণ, পাঁচ হাজার ৩৮৫ দশমিক ০৬ মিটার রানিং মিটার গ্রেড সেপারেটর নির্মাণ, দুই হাজার ৩১৩ দশমিক ০৭ রানিং মিটার সড়ক প্রশস্তকরণ, পাঁচ হাজার ৬০৭ দশমিক ৪৮ রানিং মিটার রাস্তা নির্মাণ, গৃহস্থালী স্যুয়ারের জন্য এক হাজার ৫০০ মিটার আরসিসি পাইপ (৩০০ মি.মি.) স্থাপন, গৃহস্থালী স্যুয়ারের জন্য এক হাজার ৫০০ মিটার আরসিসি পাইপ (৬০০ মি.মি.) স্থাপন, দুই হাজার রানিং মিটার ইউ-ড্রেন নির্মাণ, বিদ্যুতায়ন, গৃহস্থালী স্যুয়ারের জন্য এক হাজার মিটার আরসিসি পাইপ (৯০০ মি.মি.) স্থাপন, ২৬০টি ইন্টারসেকশন পিট, দুই দশমিক ১০ একর আয়তনের পার্ক উন্নয়ন, কড়াইল বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন, ১১ হাজার ৭২৭ রানিং মিটার তীর রিটেইনিং ওয়াল, বৃষ্টির পানি অপসারণের জন্য দুই হাজার রানিং মিটার (১২০০ মি.মি) আরসিসি পাইপ স্থাপন, বিদেশে শিক্ষা সফর, লেকের পানি পরিষ্কার করা, বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বাইসাইকেল লেন, এক্সসারসাইজ ইয়ার্ড, স্কেটিং জোন, ভিউইং ডেক, অবজারভেশন টাওয়ার, কিংস্ক, লেক সাইড সিটিং এবং পাবলিক টয়লেট, বোটিং ফ্যাসিলিজি, ল্যান্ডিং স্টেশন ইত্যাদি।

পিডি/এসআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]