বিজিএমইএ সভাপতি
এখন সরকারের কাছে পৌঁছানো যায়, কিছুদিন আগেও পৌঁছানো যেতো না
নতুন সরকারের প্রথম ১৫ দিনে ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা ‘ইতিবাচক’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
দেড় বছর ক্ষমতায় থেকেও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দেশের কোনো ব্যবসায়ীর সঙ্গে সাক্ষাৎ না করার ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স তো মাত্র ১৫ দিন। আমার ব্যক্তিগত এক্সপিরিয়েন্স ও অ্যাসোসিয়েশনের এক্সপিরিয়েন্স পজিটিভ। পজিটিভ এ কারণে যে- প্রথমত, এখন সরকারের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে, কিছুদিন আগেও পৌঁছানো যেতো না।
বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘লুকিং ইনটু বাংলাদেশ’স ডেভেলপমেন্ট: প্রায়োরেটি ফর দ্য নিউলি ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট ইন দ্য শর্ট টু মিডিয়াম টার্ম’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজীজ রাসেল, ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম, বেসিসের সাবেক সভাপতি ও বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, পলিসি রিসার্চের ভাইস চেয়ারম্যান ড. সিদ্দিক আহমেদ, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আকতার মালা ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ।
সরকারের নির্বাচনি মেনিফেস্টোতে থাকা ডি-রেগুলেশন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের বহু সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে—এমন আশা প্রকাশ করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, সরকারের মেনিফেস্টোর মধ্যে অন্যতম ছিল ডি-রেগুলেশন। ডি-রেগুলেশন নিয়ে সরকার যদি প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে তাহলে আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
নীতিমালা প্রণয়নে স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে পলিসি। পলিসি তৈরির ক্ষেত্রে স্টেকহোল্ডারদের ইনভলভ করা হয় না। ব্যুরোক্রেসি নিয়ে কথা হচ্ছে, তাদেরও মাইন্ডসেট পরিবর্তন করতে হবে। একইভাবে আমরা যারা এন্টারপ্রেনার আমাদের মাইন্ডসেটও পরিবর্তন করতে হবে। স্টেকহোল্ডারদের মতামত নিয়ে পলিসি তৈরি করা হলে তা টেকসই হবে।
এনবিআর সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মাহমুদ হাসান খান বলেন, ব্যবসা করাটা সহজ হলে কস্ট কিন্তু এমনিতেই কমে আসবে। আমাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা খুব তিক্ত, বিশেষত এনবিআর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে।
বন্ডেড ওয়্যারহাউজ লাইসেন্স নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হয়। অনেক উদ্যোক্তা লাইসেন্সের খরচ বহন করতে না পারায় বন্ড লাইসেন্স নেন না। অথচ এনবিআরের গাইডলাইন অনুযায়ী নন-বন্ডেড ফ্যাক্টরি বন্ডেড ফ্যাক্টরি থেকে কাঁচামাল কিনতে পারে না। সো পিকিউলিয়ার ল!
পোশাকের ক্ষেত্রে দেশীয় ব্র্যান্ড গড়ে তোলা প্রসঙ্গে পোশাক খাতের এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, বাংলাদেশ একটা নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করলে সেটা আন্তর্জাতিকভাবে ভালো বিক্রি হবে তার কোনো গ্যারান্টি নেই। এটা কান্ট্রি রেটিংয়ের ওপর নির্ভর করে। আমরা কিন্তু এখন টেইলারিং করছি না। আমরা টেইলারিং থেকে সরে আসছি। আমাদের অনেকের নিজস্ব ডিজাইন হাউজ আছে। ডিজাইন তৈরি করে সেটা বায়ারের কাছে দিই। নিজস্ব ব্র্যান্ডের বাজার তৈরিতে অবশ্যই আমাদের কান্ট্রি রেটিং বাড়াতে হবে।
ইএইচটি/এমকেআর