যত্রতত্র কারখানা স্থাপন নয় : শিল্পমন্ত্রী

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:০৫ এএম, ১৩ জানুয়ারি ২০১৬ | আপডেট: ০৬:৫৫ এএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭

স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে (২০২১ সাল) তৈরি পোশাক শিল্পে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে অত্যাধুনিক গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্প গড়ে তোলার বিকল্প নেই। ফলে যত্রতত্র কারখানা স্থাপন না করে পরিকল্পিতভাবে পরিবেশ বান্ধব শিল্প গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং মেশিনারিজ প্রদর্শনী-২০১৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, আধুনিক শিল্প-কারখানা গড়ে তুললে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাতেও বিপুল পরিমাণ রফতানি আয় সম্ভব। এ লক্ষ্যে যত্রতত্র কারখানা স্থাপন না করে পরিকল্পিতভাবে পরিবেশ বান্ধব শিল্প গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে গার্মেন্টস শিল্পের জন্য চীনের সহযোগিতায় বিজিএমইএ মুন্সিগঞ্জের বাউশিয়ায় একটি গার্মেন্টস শিল্পপার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ শিল্পপার্কে অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের জন্য বেশ কিছু প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে। পাশাপাশি একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পখাত গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করছে। ইতোমধ্যে বিসিককে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এ অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে বলে আমি আশা করছি।
 
আমির হোসেন আমু বলেন, বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার দেশ। এদেশের বিশাল জনসংখ্যা, সস্তা শ্রমশক্তি এবং অভ্যন্তরীণ বিশাল বাজার শিল্পায়নের জন্য তুলনামূলক সুবিধা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে রানা প্লাজা ট্রাজেডি এবং তাজরীন ফ্যাশন্স কারখানার অগ্নিকাণ্ডের পরও আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প উদ্যোক্তারা দমে যায়নি।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে বর্তমানে এ শিল্পে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক কর্মরত আছেন। এতে মূল্য সংযোজনের হার শতকরা ৪০ ভাগের অধিক এবং প্রতি বছর শতকরা ১৩ ভাগ হারে এ শিল্পের প্রবৃদ্ধি ঘটছে।
 
গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের উদ্যোক্তারা বিভিন্ন সময় এ শিল্পকে এসএমই শিল্পখাতের অন্তর্ভূক্ত করে সরকারের নীতিসহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। রফতানিমূখী শিল্প হিসেবে প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং এ শিল্পকে অগ্রাধিকার শিল্পখাত হিসেবে নতুন শিল্পনীতিতে অন্তর্ভূক্ত করার কথা বলেছেন। নতুন জাতীয় শিল্পনীতিতে এসব দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
 
অনুষ্ঠানে বিজিএপিএমইএ এর প্রেসিডেন্ট রাফেজ আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম, এফবিসিসিআই এর প্রথম সহসভাপতি, শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএপিএমইএ এর প্রথম সহসভাপতি শাহজাদা মাহমুদ চৌধুরীসহ গার্মেন্টস এক্সেসরিজের শিল্প উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 
এসআই/আরএস/এমএস