পেট্রোবাংলার ৩৭০০ কোটি টাকার বকেয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় কাস্টমস

ইকবাল হোসেন
ইকবাল হোসেন ইকবাল হোসেন , নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১০:০৫ পিএম, ৩০ জুন ২০২২

# ২০২১-২০২২ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের ৫৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়
# বকেয়া প্রায় সব রাজস্বই জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাওনা রয়েছে। এসব বকেয়া আদায় সম্ভব হলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের প্রবৃদ্ধি ২২ দশমিক ৪২ শতাংশ হতো।

সরকারি সংস্থা পেট্রোবাংলার কাছে ২০২১-২২ অর্থবছরে তিন হাজার ৭শ কোটি টাকা রাজস্ব পাওনা রয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমসের। সরকারি এ সংস্থার কাছে বিশাল অঙ্কের অনাদায়ি এই রাজস্ব নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। গত ছয় মাসে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানিতে এই রাজস্ব বকেয়া পড়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস জানিয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারি-বেসরকারি সাত প্রতিষ্ঠানের কাছে তিন হাজার ৮৮৪ কোটি টাকার বেশি আমদানি শুল্ক বকেয়া পড়েছে। তবে আলোচ্য অর্থবছরে সবমিলিয়ে ৫৯ হাজার ২৫৬ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। যা বিগত ২০২০-২০২১ অর্থবছরের আদায়কৃত রাজস্বের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় জাগো নিউজকে বলেন, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের মাধ্যমে ৫৯ হাজার ২৫৬ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। রাজস্ব বোর্ডের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম কাস্টমসের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস প্রচেষ্ঠায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মো. ফখরুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আয় বিগত অর্থবছরের বাজেটের প্রায় এক অষ্টমাংশ।

২০২১-২২ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। কোভিড পরবর্তী পরিস্থিতিতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও আগের (২০২০-২১) অর্থবছরের চেয়ে প্রায় সাত হাজার ৬৮০ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।

এলএনজি আমদানি করে বিগত ছয় মাসে পেট্রোবাংলা কোনো রাজস্ব দেয়নি উল্লেখ করে ফখরুল আলম বলেন, নিয়ম মোতাবেক আমদানি শুল্ক দিয়েই পণ্য ছাড় নেওয়ার কথা। তবে সরকারি অতি প্রয়োজনীয় জ্বালানি হিসেবে বিশেষ বিবেচনায় আমদানি শুল্ক বকেয়া রেখেই এলএনজি খালাসের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই ছয় মাসেই পেট্রোবাংলার কাছে তিন হাজার ৬৯৯ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব বকেয়া পড়েছে। বকেয়া এই রাজস্ব আদায়ে পেট্রোবাংলাকে চিঠির পর চিঠি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু এখনো তারা বকেয়া রাজস্ব পরিশোধ করেনি। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এসব বকেয়া আদায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট ৫৯ হাজার ২৫৬ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে আলোচ্য অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৪ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। এর আগের (২০২০-২১) অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৫১ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা। ফলে ২০২১-২২ অর্থবছরে নগদ রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চার হাজার ৮১৯ কোটি টাকা কম হলেও আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

তবে এখনও সরকারি-বেসরকারি সাত প্রতিষ্ঠানের কাছে তিন হাজার ৮৮৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকার রাজস্ব বকেয়া রয়েছে। বকেয়া প্রায় সব রাজস্বই জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে। এসব বকেয়া আদায় সম্ভব হলে প্রবৃদ্ধি ২২ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়াতো বলে জানায় কাস্টমস।

তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) শেষ হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে পেট্রোবাংলার কাছে শুল্ক বকেয়া পড়েছে তিন হাজার ৬৯৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এছাড়াও পেট্রোলিয়াম জ্বালানি আমদানিতে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের কাছে রাজস্ব বকেয়া পড়েছে ১১৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের কাছে ২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (এসএওসিএল) কাছে বকেয়া ৫৭ লাখ টাকা। একই সঙ্গে জ্বালানি উপকরণ আমদানিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিট এলএনজি লিমিটেডের কাছে পাঁচ কোটি ১১ লাখ টাকা, এক্সিলারেট এনার্জির কাছে ১৩ লাখ টাকা বকেয়া পড়েছে। সরকারি আরেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পুলিশের কাছে আমদানি শুল্ক বকেয়া পড়েছে ৩৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। সবমিলিয়ে সাত প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া পড়েছে তিন হাজার ৮৮৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

কাস্টমসের বকেয়া রাজস্বের বিষয়ে কথা বলতে পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) ফারুক আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ইকবাল হোসেন/কেএসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]