অধ্যক্ষ-প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত বাতিলের দাবি
দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। এ শর্ত শিথিল করে ১০-১২ বছরের অভিজ্ঞতা রেখে নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে। এ দাবিতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে স্মারকলিপি দিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা। শিক্ষকদের পক্ষে আবু নাছের সুমন, তোফায়েল আহমেদ, আসিফ আলী এবং নজরুল ইসলাম মৃধা এ স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করে সংশোধিত এমপিও নীতিমালা জারি করেছে। এর ফলে চলমান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে যারা ১৮ বছরের কম অভিজ্ঞতা নিয়ে আবেদন করেছেন, তারা নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।
আরও পড়ুন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধন হচ্ছে, পেছাবে পরীক্ষা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘অশিক্ষিত’ মানুষের খবরদারি মেনে নেবো না
আবেদনকারীরা জানান, অতীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কখনোই উভয় পদের জন্য ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করা হয়নি। বরং দুই পদের মধ্যে কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার পার্থক্য থাকতো। নতুন এ সিদ্ধান্তে বহু যোগ্য, মেধাবী এবং তরুণ শিক্ষক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।
স্মারকলিপিতে শিক্ষকরা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতায় প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর। সে অনুযায়ী ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা পূরণ করতে একজন শিক্ষকের বয়স প্রায় ৫৩ বছর হয়ে যায়, যা অবসরের সময়ের কাছাকাছি। এ অবস্থায় তরুণ নেতৃত্বের অভাব দেখা দিতে পারে এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।
তাদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য তুলনামূলক কম অভিজ্ঞতা হলেও উদ্যমী ও দক্ষ তরুণ শিক্ষকদের নেতৃত্বে আনা প্রয়োজন। তাই প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে ১০ থেকে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিক্ষকদেরও নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।
এএএইচ/কেএসআর