বইমেলার ২৬তম দিনে ১৩৪ নতুন বই


প্রকাশিত: ০৩:৪৭ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

প্রতিদিনের মতোই অমর একুশে বইমেলা ছিল পাঠকদের ভিড়। অমর একুশে বইমেলার ২৬তম দিনে নতুন বই এসেছে ১৩৪টি। ৮টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মেলায় আসা নতুন বইগুলোর মধ্যে রয়েছে সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দিপু মনি রচিত ‘ভাষাবিদ এস এ ওয়াদুদ স্মারক গ্রন্থ’; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন রচিত ‘বঙ্গবন্ধু ও আজকের বাংলাদেশ’; বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান রচিত গল্পগ্রন্থ ‘গল্পগুলো মজার’; কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সংবর্ধ্বনা গ্রন্থ ‘শামসুজ্জামান খান ৭৫ পূর্তি সংবর্ধনাগ্রন্থ’; ড. এস এম সারোওয়ার মোর্শেদ রচিত প্রবন্ধ সংকলন ‘ভাষার বরকত বনাম রাষ্ট্রের বরকত’; জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরীর কাব্য গ্রন্থ ‘কৃষ্ণাদশমী’; কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিনের প্রবন্ধ সংকলন ‘নির্বাসিত তারুণ্য’; সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমানের ‘পোয়েট অব পলিটিক্স’, সমাজকর্মী আমিনুল ইসলাম সুজনের ‘হিন্দি টিভি চ্যানেল ও শিশুদের ভাষা’ ইত্যাদি।

বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মরতুজা আহমদ বৃহস্পতিবার প্রেস ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ-এর মহাপরিচালক মো.শাহ আলমগীর রচিত ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাংবাদিক’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। আফরোজা রহমান লতার ‘কলংকিত মেয়ে’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা, রিয়াদুল হক রচিত ‘আমার মা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন কবি আসাদ চৌধুরী, আশরাফুল মান্নান রচিত কিশোর কবিতার বই ‘ডাকছে আমার শৈশব’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন খালেদ বিন জয়েনউদ্দিন, ডা. ফরহাদ কামাল-এর ‘পারমানবিক শক্তি সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন আরশাদ হোসেন, নাজমা আহমেদ পিংকি রচিত বাংলাদেশ ও আমাদের উৎসব বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন মাজহারুল ইসলাম এবং আহমেদ ফরিদ রচিত ‘মৃত্যু ও মানবতার গল্প’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক।

বিকেল গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘গত বছরে বাংলাদেশের কবিতা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিক উল্লাহ খান। কবি আসাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা এবং কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন।

কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের আজকের বাস্তবতা ও কবিতা এক অভিন্ন চেতনার উৎসারণ। সা¤প্রতিক কবিদের কবিতায় দুঃসময়-অতিক্রমী আলোর দিশা কতটুকু প্রজ্জ্বলিত তা দিয়েই গত বছরের বাংলা কবিতার বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা সম্ভব। তিনি বলেন, কবিরাই পারে দুঃসময় থেকে মানুষকে সুসময়ের স্বপ্ন দেখাতে।

বক্তারা বলেন, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে যে সব কবিতা রচিত হয়েছে, তার চারিত্রলক্ষণ বিচার করতে গেলে সাহিত্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক-সামাজিক পরিস্থিতিকেও মাথায় রাখতে হবে। গত বছরের পত্র-পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা এবং ছোট কাগজে আশি ও নব্বই-এর দশকের কবিদের সৃষ্টিশীল উপস্থিতির পাশাপাশি নতুন শতাব্দীর তরুণপ্রাণ কবিরা যুক্ত করেছেন চেতনার নতুন নতুন মাত্রা। গত বছরের সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও কবিতার শব্দমালা থেকে আমরা এক অবিনাশী জীবনচেতনাকেই যেন খুঁজে পাই।

এদিকে প্রকাশকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলা একাডেমির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার মেলা শুরু হয় দুপুর ২টা থেকে। প্রতিদিনের মতোই বেলা গড়ানোর সাথে সাথে ভিড় বাড়তে থাকে মেলায়। তবে ৭ মার্চ পর্যন্ত মেলার সময় বাড়ানোর দাবি করেছেন বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি।

আরএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।