চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৬ কমিটি করলেন চসিক মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১২:২৫ এএম, ০৫ মে ২০২৬
চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়ে সমন্বয় সভা করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ৬টি কমিটি গঠন করেছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

সোমবার (৪ মে) চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, পরিচ্ছন্ন বিভাগ, তদারকি কর্মকর্তা ও ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়ে সমন্বয় সভা করেন চসিক মেয়র। সভায় বিভিন্ন খাল, ড্রেন, কালভার্ট, সংযোগ নালা, সড়ক ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

কমিটিগুলোর সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করবেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ও প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান।

কমিটিতে রয়েছেন- হিজরা খালের জন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জোবাইদা আক্তার, নির্বাহী প্রকৌশলী ফারজানা মুক্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ শাফকাত আমিন, পরিচ্ছন্ন বিভাগের জোন কর্মকর্তা কল্লোল দাশ।

জামাল খান খাল ও হিজরা খালের জন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জোবাইদা আক্তার, নির্বাহী প্রকৌশলী ফারজানা মুক্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ শাফকাত আমিন, পরিচ্ছন্ন বিভাগের জোন কর্মকর্তা কল্লোল দাশকে নিয়ে কমিটি করা হয়েছে।

রামপুর খালের জন্য আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব, নির্বাহী প্রকৌশলী তাসমিয়া তাহসিন, পরিচ্ছন্ন বিভাগের জোন কর্মকর্তা আলী আকবর।

গুলজার খালের জন্য আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা রক্তিম চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার জাহান, জোন কর্মকর্তা জাহেদুল্লাহ রাশেদ।

আরও পড়ুন
চট্টগ্রামে পানিতে ডুবেছে স্বপ্ন 
খাল দখল, অবৈধ স্থাপনা ও ময়লা ফেললে কঠোর ব্যবস্থা: চসিক মেয়র 

মনোহরদি খালের জন্য প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ।

চাঁদগাঁও-মুরাদপুর এলাকার জন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) ফরহাদুল আলম, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মৌমিতা দাশ, নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাতুল করিম, মাহমুদ শাফকাত আমিন,পরিচ্ছন্ন বিভাগের জোন কর্মকর্তা আবু তাহেরকে নিয়ে কমিটি করা হয়েছে।

ওয়াসার সঙ্গে সমন্বয় সাধন করবেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন এবং প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান। জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রকৌশলগত সার্বিক কার্যক্রমে পরামর্শ দেবেন প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার।

সভায় মেয়র বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে এখন আর কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, কোন খাল বা ড্রেন বন্ধ রয়েছে, কোথায় বাঁধ বা নির্মাণসামগ্রী পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে— এসব দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে।

সভায় মেয়র বিশেষভাবে চাকতাই, মুরাদপুর, রামপুরা খাল, আজম পাহাড় খাল, গাউছিয়া রোড, রুপসা বেকারি এলাকা, গুলজারখাল ও মাদারবাড়ি এলাকার জলাবদ্ধতার বিষয় তুলে ধরেন। তিনি জানান, অনেক স্থানে খাল ও ড্রেনে নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকায় পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেন তিনি।

রামপুর ও আজববাহার খাল এলাকার বিষয়ে মেয়র বলেন, আমি নিজের চোখে দেখেছি মানুষ কত কষ্টে আছে। খালের মুখে নির্মাণসামগ্রী পড়ে আছে, রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। বর্ষার আগে অন্তত অস্থায়ীভাবে হলেও জনগণের চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। কিছু কাজ বর্ষার আগে অস্থায়ীভাবে হলেও করতে হবে। পরে সেটা নষ্ট হলেও জনগণের স্বার্থে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভায় পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কার্যক্রম নিয়েও কঠোর অবস্থান নেন মেয়র। তিনি জানান, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে সেবকদের উপস্থিতি ও কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করা হবে। যারা ঠিকমতো কাজ করে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের কাজ দরকার। শহর সুন্দর রাখতে হলে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা-কর্মীদের জন্য ৩ হাজার রেইনকোট সরবরাহ করা হবে এবং প্রয়োজনে নতুন কর্মী নিয়োগও দেওয়া হবে।

সভায় বিভিন্ন জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার জন্য পৃথকভাবে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরেজমিনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মেয়র।

এমআরএএইচ/কেএসআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।