তাপসীর নাম ডুবাচ্ছে যে সিনেমা
তেলুগু সিনেমা ‘জুম্মানদি নাদাম’ দিয়ে তাপসী পান্নুর অভিষেক হয় ২০১০ সালে। ২০১১ সালে তাকে পাওয়া যায় তামিল ছবি ‘আডুকালাম’-এ। একই বছর চারটি তেলুগু সিনেমা করেন। যথাক্রমে ‘ভাস্তাদু না রাজু’, ‘মিস্টার পারফেক্ট’, ‘ভীরা’ ও ‘মগুদু’। ২০১২ সালে করেন একই ইন্ডাস্ট্রির ‘দারুভু’ এবং পরের বছর ২০১৩ সালে ‘শ্যাডো’। একই বছর তামিল ছবি ‘আরামবাম’, ২০১৫ সালে ‘কাঞ্চন ২’ ও ‘ভাই রাজা ভাই’। ২০১৯ সালে তামিল-তেলুগু ভাষায় করেন ‘গেম ওভার’।
তবে তিনি গেল কয়েক বছরে হয়ে উঠেছেন বলিউডের জনপ্রিয় একজন তারকা। তার প্রায় সব ছবিই দেখেছে ব্যবসায়িক সাফল্যের মুখ। ‘ডানকি’ ছবিতে শাহরুখ খানের বিপরীতেও হাজির হয়ে চমক দেখিয়েছেন তাপসী।
তবে অভিনেত্রীর বর্তমান সময়টা একদম ভালো যাচ্ছে না। বলা চলে তারকা তাপসী পান্নুর নাম ডুবাচ্ছে ‘আসসি’ সিনেমাটি। ২০ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি তিনদিনে বক্স অফিসে একেবারে মুখ থুবড়ে পড়েছে।
পরিচালক অনুভব সিনহা নির্মিত নতুন ছবি ‘আসসি’ মুক্তির প্রথম তিনদিন শেষ করেছে হতাশাজনক আয়ে। ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাপসী পান্নু। তিনদিনে ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১০ লাখ রুপি। অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারে এটিই সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার রেকর্ড।
মুক্তির তৃতীয় দিন রোববার ছবিটি আয় করেছে আনুমানিক ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি। এর আগে শুক্রবার উদ্বোধনী দিনে আয় ছিল ১ কোটি রুপি এবং শনিবার কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটি ৬০ লাখ রুপিতে পৌঁছায়। তবে রোববারে প্রত্যাশিত উল্লম্ফন দেখা যায়নি। ফলে প্রথম সপ্তাহান্তের মোট সংগ্রহ সীমিত পর্যায়েই আটকে আছে।
আদালতকেন্দ্রিক এই নাট্যধর্মী ছবিতে তাপসীর সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন কানি কুসরুতি, রেবতী, মনোজ পাহওয়া, কুমুদ মিশ্র এবং মোহাম্মদ জীশান আয়ুব।
‘আসসি’ ছবির কিছু দৃশ্য
ভারতে প্রতি ২০ মিনিটে একটি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়, এই সত্যটি পুরো ছবিজুড়ে দর্শককে মনে করিয়ে দেওয়া হয়। অনুভব সিনহার ‘আসসি’ নারী-পুরুষ সবার অন্তরাত্মাকে নাড়িয়ে দেবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই ছবির গল্পের মাধ্যমে তিনি সমাজের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। কথায় আছে, চলচ্চিত্র সমাজের আয়না, আর তার প্রভাব ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য হওয়া উচিত। এই ছবি ঠিক সেটাই করতে চেয়েছে।
ছবিটি নিয়ে দর্শক প্রতিক্রিয়া মোটামুটি ইতিবাচক হলেও প্রত্যাশিত সংখ্যক দর্শক প্রেক্ষাগৃহে আসছেন না। বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত প্রচারণা ও মুক্তি ঘিরে কম আলোচনা এর একটি বড় কারণ হতে পারে।
পরিচালক অনুভব সিনহা ও তাপসী পান্নুর আগের যৌথ কাজ ‘থাপ্পড়’ মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩০ কোটি রুপি আয় করে সফলতার স্বীকৃতি পায়। সেই তুলনায় ‘অ্যাসি’ অনেকটাই পিছিয়ে।
আগামী দিনগুলোতে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে আয় ধরে রাখা এবং দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে প্রবৃদ্ধি দেখানো ছবিটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বড় বাজেটের নতুন ছবি মুক্তির আগে পর্যন্ত কিছুটা নিরবচ্ছিন্ন প্রদর্শনের সুযোগ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে আয় বাড়ানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এলআইএ