ভারতে আটকে দেওয়া হলো অস্কার মনোনীত সিনেমা
অস্কারে মনোনয়ন পাওয়া তিউনিসিয়ার সিনেমা ‘দ্য ভয়েজ অব হিন্দ রাজাব’ আটকে দিয়েছে ভারতীয় সেন্সরবোর্ড। পরিবেশকেরা জানিয়েছেন মুক্তির অনুমোদন না দেওয়ায় ছবিটি ভারতে দেখানো যাচ্ছে না। হলিউডভিত্তিক বিনোদন মাধ্যম ভ্যারাইটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। কিন্তু কেন?
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এ সিনেমা ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকেই নাকি ছবিটি আটকে দিয়েছে সেন্সরবোর্ড। মুম্বাইভিত্তিক পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান জয় ভিরাত্রা এন্টারটেইনমেন্টের প্রধান মনোজ নন্দনা বলেন, ছবিটি মুক্তি পেলে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমন যুক্তি দেখিয়ে ভারতের সেন্সরবোর্ড ছবিটি ভারতে দেখানোর অনুমোদন দেয়নি।
‘দ্য ভয়েজ অব হিন্দ রাজাব’ ছবির পরিচালক কাওথার বেন হানিয়া
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ‘দ্য ভয়েজ অব হিন্দ রাজাব’ ছবিটি সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনে (সিবিএফসি) জমা দেন মনোজ এবং মার্চের মাঝামাঝি, অস্কার অনুষ্ঠানের আগে ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তবে এখনো ছবির ছাড়পত্র পায়নি তারা। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি, ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক এত শক্তিশালী যে, একটি সিনেমা সেটা ভেঙে দেবে এমন ভাবনা হাস্যকর।’
‘দ্য ভয়েজ অব হিন্দ রাজাব’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন তিউনিসিয়ার নির্মাতা কাওথার বেন হানিয়া। এই ছবিতে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে গাজা সিটিতে বোমা হামলার সময় পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবের মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। সপরিবারে হামলা থেকে বাঁচতে জরুরি সেবায় করা তার আতঙ্কিত ফোনকলের সত্যিকারের অডিও সিনেমায় ব্যবহার করা হয়েছে।
‘দ্য ভয়েজ অব হিন্দ রাজাব’ ছবিটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত হয় এবং সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগে অস্কারের জন্য মনোনয়নও পায়। যদিও শেষ পর্যন্ত ছবিটি অস্কার জিততে পারেনি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ইসরায়েলের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন দেখিয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর ইসরায়েলের পক্ষে বিবৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর একটি ছিল ভারত। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোদি ইসরায়েল সফরও করেন, যেখানে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এবারই প্রথম নয়, রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর সিনেমা আটকে দেওয়ার জন্য ভারতের সেন্সরবোর্ড আগেও সমালোচিত হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সমালোচকদের কাছে প্রশংসা পাওয়া সিনেমা ‘সন্তোষ’ও ভারতীয় পুলিশে নারীবিদ্বেষ, ইসলামোফোবিয়া ও সহিংসতার চিত্রায়ন নিয়ে আপত্তির কারণে আটকে দেওয়া হয়েছিল। নন্দনা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকা অনেক দেশেই ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। তবু ভারতীয় সেন্সরবোর্ড এটি সেন্সর করতে চাইছে।’
এ বিষয়ে জানতে সিবিএফসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান