প্রেম করছেন রাইমা সেন (দেখুন ছবিতে)


প্রকাশিত: ০৭:০৫ এএম, ০১ এপ্রিল ২০১৫

টালিগঞ্জের রাইমা সেনের অনেক নতুন খবর। বদলে গিয়েছেন সুচিত্রা সেন-এর বড় নাতনি। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে হয়েছেন অনেক বেশি সিরিয়াস। চুক্তিবদ্ধ হলেন বলিউডের চার-চারটি ছবিতে। বরাবরই ব্যাক্তিগত বিষয়ে চুপচাপ থাকা রাইমা নিজেই জানালেন অজানা এক পুরুষের সাথে তার হৃদয়ঘটিত সম্পর্কের কথা। হঠাৎ করেই ইন্ড্রাষ্ট্রি থেকে হাওয়া হয়ে যাওয়া এই নায়িকা সম্প্রতি মুখ খুললেন আনন্দবাজারের কাছে। রাইমা ভক্তদের জন্য সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
 
আনন্দবাজার : দুষ্টু লোক যেমন ভ্যানিশ, তেমনই সবাই বলছিল রাইমা সেনও ভ্যানিশ...
রাইমা : হ্যাঁ, ভ্যানিশ হয়ে গিয়েছিলাম। তবে শুধু বাংলা ছবি থেকে। হিন্দি ছবি করছি। চারটে ছবি সাইন করেছি। বিনয় পাঠকের সঙ্গে ‘কাগজ কে ফুল’ বলে একটা ছবি শুরু করেছি...


আনন্দবাজার : হিন্দি ছবি-টবি সব ঠিক আছে, আগে বলুন কী হয়েছিল রাইমার?
রাইমা : নিজেকে বদলেছে রাইমা। আজকের আমি অনেক অনেক শান্ত। রেস্টলেস ভাবটা চলে গিয়েছে। নিয়মিত জিম করছি। বেসিক্যালি জীবন নিয়ে ফাইনালি সিরিয়াস হয়েছি...
 
আনন্দবাজার : বিশ্বাস হচ্ছে না...
রাইমা : বিশ্বাস করুন তা হলে। এত দিন আমার কাছে সব কিছুই হাসিঠাট্টা ছিল। আজকে আর সে ভাবে দেখতে চাই না জীবনটা। আমার একটা নাম আছে। সেই নামটা ভাল কাজে ব্যবহার করতে চাই। সে দিন রাজ মহতানি আর অনামিকা খন্না আমাকে উইমেন এমপাওয়ারমেন্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হতে বলল। রাজের সঙ্গে মিটিং করলাম। নেট থেকে পড়াশোনা করলাম। শুধু পার্টি, মিনিংলেস হাসিঠাট্টা তো অনেক হল। শুধু শুধু ও সব আর কত করা যায়? কেরিয়ার নিয়ে সিরিয়াস হয়েছি ফাইনালি...


আনন্দবাজার : কী রকম?
রাইমা : জীবনে কোনও দিন কোনও স্ক্রিন টেস্টে যাই নি। কিন্তু সে দিন এমন একটা ছবির অফার পেলাম, যেখানে স্ক্রিন টেস্টে যাওয়ার দরকার ছিল। সঙ্গে সঙ্গে গেলাম। এ বার থেকে এটাও ঠিক করেছি সেই ছবিই করব, যেটা মন থেকে করতে চাই। ও আমার বন্ধু, ওকে আমি চিনি, এমন কেউ অনুরোধ করলে আর ছবি সাইন করব না।
 
আনন্দবাজার : গত ছ’মাস ধরে শুনছি আপনি একটা সম্পর্কে আছেন। নতুন সেই সম্পর্কের জেরেই কি এই পরিবর্তন?
রাইমা : (হেসে) একদমই তাই। আমি প্রেম করছি। প্রেমিক- হি ইজ ভেরি ম্যাচিওর্ড। আমার যে পরিবর্তন সেটা ওর জন্যই। এই মুহূর্তে আমি নামটা নিতে পারছি না, কিন্তু এই প্রথম কোনও ইন্টারভিউতে স্বীকার করছি, আই অ্যাম ইন আ রিলেশনশিপ। ও আমার জীবনে আসার পর থেকে আমি অনেক শান্ত হয়েছি। বুঝতে শিখেছি ছোট ছোট অনুভূতিগুলো।
 
আনন্দবাজার : যাঁর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক তিনি তো বাঙালি নন?
রাইমা : না, বাঙালি নন...
 
আনন্দবাজার : বিয়ে করবেন ?
রাইমা : বিয়ে করব কি না জানি না। ভাবিনি এখনও। যদি কপালে থাকে তা হলে নিশ্চয় ওকেই বিয়ে করতে চাইব। কিন্তু বিয়ের থেকেও বেশি ইম্পর্ট্যান্ট, আমার পার্সোনালিটিতে একটা পরিবর্তন এনেছে ও। ওর সঙ্গে থাকার পর আমার ধৈর্য বেড়েছে। এই নতুন রাইমাকে ভাল লাগছে আমার।

আনন্দবাজার : এর আগেও তো আপনার বয়ফ্রেন্ড ছিল। এ বারের সঙ্গে আগের সম্পর্কগুলোর ফারাক কোথায়?
রাইমা : ছিল তো। কিন্তু দোজ ওয়ার রাবিশ। একজনের সঙ্গে পাঁচ বছরের সম্পর্ক ছিল। আর একজনের সঙ্গে এক বছরের। সেই সম্পর্কগুলোতে আমি যা বলতাম তারা সেটাই করত। আমি তাদের পাপেট বানিয়ে ফেলেছিলাম। কিন্তু আজ বুঝতে পারি, পাপেট বানিয়ে আমি খুশি তো ছিলাম কিন্তু ওই পাপেটদের কোনও সম্মান আমি করতাম না। এই সম্পর্কে আমি এমন একজনকে পেয়েছি যে, আমার মুখের উপর বলে আমার এটা করা ঠিক না। আর আজকে আমি নিজেও চাই কেউ আমাকে কন্ট্রোল করুক। আই লাইক টু বি কনট্রোল্ড টুডে।


আনন্দবাজার : মুনদি (মুনমুন সেন) বা আপনার বাবা এই সম্পর্ক নিয়ে খুশি?
রাইমা : হ্যাঁ, দে আর ভেরি হ্যাপি। বললাম না, ও ভীষণ সেন্সিবল। মা-বাবা দু’জনেই খুব খুশি।
 
আনন্দবাজার : গত পাঁচ বছরে যে সব ছবি করেছেন তার মধ্যে কিছু ছবি রিগ্রেট করেন?
রাইমা : অর্ধেক ছবি রিগ্রেট করি। আর কী বলুন তো, শুনতাম লোকে বলছে, রাইমার এত পোটেনশিয়াল। আমি ভাবতাম কীসের পোটেনশিয়ালের কথা বলছে। সব সময় মনে করতাম আমি ফ্লুক, আমি লাকি। কোনও পোটেনশিয়াল আমি নিজের মধ্যে দেখতে পেতাম না। আজ এই সম্পর্ক আমাকে আমার পোটেনশিয়াল দেখতে শিখিয়েছে। এবং কী আশ্চর্য, যে মুহূর্তে অল্প অল্প করে নিজের ভ্যালু বুঝেছি,  ঠিক সেই সময়েই কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ছবির অফার পেলাম।
 
আনন্দবাজার : তা হলে এই নতুন রাইমাকে এককথায় বর্ণনা করুন...
রাইমা : (হেসে) রাইমা সেন আগে ট্যাকিলা শট ছিল। আজ সিঙ্গল মল্ট।
 
আনন্দবাজার : আজকে যে এতটা বদল হয়েছে আপনার মধ্যে, কখনও মনে হয়, ইস্, আর একটু আগে হলে দিম্মা (সুচিত্রা সেন) দেখে যেতে পারতেন?
রাইমা : হ্যাঁ, মনে হয়। রোজ মনে হয়। দিম্মা আমাকে বলত ঠাকুরদেবতায় বিশ্বাস করো। পুজো করো।
আজকে আমি ধ্যান করি। অনেক স্পিরিচুয়াল হয়েছি। এ ছাড়াও দিম্মা আমাকে প্রায়ই বলত, ‘রাইমা তুমি খুব ভাল অভিনেত্রী, আর একটু মন দিয়ে কাজ করা উচিত তোমার।’ আজকে যখন বুঝতে পারছি আমি শুধু ফ্লুক নই, নিশ্চয়ই মন দিয়ে কাজ করলে আমি আরও ভাল অভিনেত্রী হতে পারব, তখন দিম্মার কথাগুলো কানে বাজে।  খুব আফসোস হয়, দিম্মা এই রাইমাকে দেখে যেতে পারল না। এই রাইমাকেই তো দেখতে চেয়েছিল দিম্মা!

এলএ/এসএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।