সিনেমার সংকটকালে সালমানকেই মিস করি আমি : সোহান

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:২৫ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাস সৃষ্টিকারী নায়ক সালমান শাহ। মৃত্যুর দু’যুগ পরও এখনও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা তার। এখনও টিভি পর্দায় তার অভিনীত ছবি প্রচার হলে দর্শক আগ্রহ নিয়ে দেখেন। আজ ১৯ সেপ্টেম্বর, আজকের এই দিনে ১৯৭১ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

সালমান শাহ প্রথম বড় পর্দায় পা রাখেন সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমা দিয়ে। এক সিনেমা দিয়েই নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছিলেন ইমন থেকে সালমান শাহ হওয়া কোটি মানুষের ‘স্বপ্নের নায়ক’। নাচ, অভিনয়, অ্যাকশন; সবখানেই তরুণ সালমান রেখেছিলেন নিজস্বতা এবং ভিন্নতার ছাপ। যা তাকে রাতারাতি করে তুলেছিলো জনপ্রিয়।

সন্তানতূল্য সেই সালমান স্মরণে আজ ভারাক্রান্ত পরিচালক সোহানুর রহমান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘সালমানকে মিস করি। প্রায়ই মিস করি। সিনেমার এই দুর্দিনে বোধকরি ওর সঙ্গে যারা কাজ করেছে সবাই ওকে মিস করেন। ও এমনই একজন পারফেক্ট হিরো ছিলো, অভিনেতা ছিলো। ও একাই অনেক ঘাটতি পূরণ করতে পারতো। কি একটা জাদু জানতো যেন। পর্দার মতো বাস্তবেও খুব আকর্ষণীয় একটা ছেলে ছিলো ও।

এজন্যই ওকে খুব মিস করি। জন্মদিন বা মৃত্যুদিন এলে সেটা আরও গভীর হয় যখন চারপাশে দেখি সালমানকে নিয়ে মাতামাতি চলছে মৃত্যুর এত বছর পরও। এটা আর কোনো ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো তারকার বেলায় ঘটেছে কি না আমার জানা নেই।’

স্মৃতিচারণ করে সোহান আরও বলেন, ‘সালমানের সঙ্গে একটা মজার ঘটনা ঘটেছিল। পাহাড়ের উপরে একটি সিকোয়েন্স ছিল। সেদিন ওর মন খারাপ ছিল কেন জানি। দৃশ্যের জন্য ওর পুরো গেটাপ বদলানোর দরকার ছিলো। তখন আমি সালমানকে বলি যে টি-শার্টটি পরে আছে সেটা ইন করে পরা যাবে না। টি শার্টটি উপর দিয়ে পরলে ভালো লাগবে। কিন্তু ওর জেদ টি-শার্টটি ইন করেই পরবে। এখানে সমস্যা হলো আমি যদি ক্লোজ করে ফেলি টি শার্ট ইন করা না ছাড়া তাহলে এতো সুন্দর লোকেশনকে মিস করতে হবে। আমার লোকেশন ও টি শার্ট দুটোই দরকার। নৃত্য পরিচালক আমির হোসেন বাবু ভাইকে নিয়ে বুদ্ধি করে বললাম, সালমান যখন চাইছে না তাহলে বাদ দেন। ওর কোমরটা কেটেই শর্টটা নেই। যাতে করে দর্শক না বুঝতে পারে টি শার্টটা কী অবস্থায় ছিলো। তখন ও হেসে গড়াগড়ি খেতে লাগলো। শুটিং সেটে এসব অনেক মজা হতো। ও মজার একটা ছেলে ছিলো।’

তিনি আরো বলেন, ‘আরেকটা ঘটনা মনে পড়ে। সিনেমার শুট করছি একটা ফাইটের। সেখানে সালমান যা করলো মানে অ্যাকশনটা ও যেভাবে উপস্থাপন করলো সেটি আমি এতো বছর যাবৎ সিনেমায় আছি, আজ পর্যন্ত দেখিনি কেউ করতে পেরেছে। সালমানকে দিয়ে খুব বেশি টেক দিতে হতো না। ও অল্পতেই বুঝে যেত দৃশ্য। খুব যত্ন করে কাজ করতো। প্রস্তুতি নিতো। রিহার্সাল করতো। অনেক বড় মাপের সিনিয়র শিল্পীরাও ওর সঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে চমকে যেত।

আসলে সালমানের মতো পারফেক্ট শিল্পী আর হবে কিনা জানি না। বেদনায় ক্লান্ত হয়ে গেছি ওকে নিয়ে বলে বলে, ভেবে ভেবে। আর ওই যে বললাম সিনেমার আজকের দিনে ওকে খুব মিস করি। আল্লাহর কাছে প্রর্থানা, তিনি যেন আমাদের সালমানকে ভালো রাখেন। ওর আত্মা যেন শান্তি পায়।’

এলএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]