‘দশ ট্যাহায় এহোন কাঁচা মরিচ বেচি না’

নাজমুল হুদা
নাজমুল হুদা নাজমুল হুদা
প্রকাশিত: ০১:০২ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২০

নাজমুল হুদা

করোনা আসার পর অনেকদিন হলো বাজারে যাই না। সেদিন অফিস থেকে বেতন পেলাম। পরদিন (শুক্রবার) ভাবলাম, আজকের বাজারটা আমিই করব। পরিবারকে না জানিয়ে বাজার করে বাসায় নিয়ে তাদের সারপ্রাইজ দেব। তাই ৫০০ টাকা হাতে নিয়ে গেলাম বাজার করতে।

আমার আবার শীতকালীন সবজি খুব পছন্দ। তাই বাজারে দেখলাম শীতকালীন সবজি কী কী আছে। তখন এক কেজি শিম নেওয়ার চিন্তা করলাম। দোকানদারকে শিমের দাম জিজ্ঞাসা করতেই আমি অবাক! দোকানদার বললেন, ‘উড়শি (শিম) ১৪০ ট্যাকা।’ ভাবলাম, শীতকাল আসেনি তাই এত দাম শিমের। ফলে আধা কেজি ৭০ টাকা দিয়ে নিলাম। পরে অন্য কোনো শীতের সবজি কেনার আর সাহস করলাম না। বাজারে আরও কিছু সবজি দেখলাম।

কিন্তু এসব সবজির দাম জিজ্ঞাসা করতেই আমি ফের অবাক হয়েছি। প্রায় সব সবজিই ৮০-১০০ টাকার ঘরে বা তারও বেশি। যদিও এসব সবজি আমি কখনো এত দামে এর আগে কিনিনি। এক দোকান থেকে বেছে বেছে আধা কেজি টমেটো নিলাম। এর জন্য আরও ৭০ টাকা খরচ হয়েছে।

ঘরে আলু প্রায় সব সবজির সঙ্গেই রান্না করা হয়। তাই এক কেজি আলু কিনলাম। তবে আলুর দামেও স্বস্তি পেলাম না। এক কেজি আলু কিনতে হলো ৫০ টাকায়। এর আগে ২০-২৫ টাকায় আমি অনেক আলু কিনেছি। সব মিলিয়ে এক কেজি সবজি আর এক কেজি আলু কিনেছি ১৯০ টাকা খরচ করে।

এগুলো কিনে চলে আসার সময় সবজি বিক্রেতা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কাঁচা মরিচ লাগে না ভাই?’ তখন কাঁচা মরিচ কেনার কথা মনে পড়ল। বললাম, ‘আমাকে ১০ টাকার কাঁচা মরিচ দেন।’ তিনি বললেন, ‘দশ ট্যাহায় এহোন কাঁচা মরিচ বেচি না। আদবা (১২৫ গ্রাম) নিতে হইব।’ আমি রীতিমত অবাক হলাম। কারণ আগে আমি ২-৫ টাকায় অনেক কাঁচা মরিচ কিনেছি।

যা-ই হোক, বাজারে সবজির দামের সাথে কাঁচা মরিচের দামেও যে আগুন লেগেছে, সেটা টের পেলাম! পরে আধা পোয়া কাঁচা মরিচ কিনলাম ৩০ টাকা দিয়ে। ৩০ টাকার কাঁচা মরিচ দেখে আমার মন ভরলো না।

এমন চড়া দামে সবজিতে আর বাজেট না বাড়িয়ে গেলাম কিছু মসলা জাতীয় পণ্য কিনতে। এক দোকান থেকে আধা কেজি পেঁয়াজ কিনলাম ৪৫ টাকায়। আদার দাম দেখলাম, দেশি পণ্য ১০০ টাকা। চায়না পণ্য ২৬০ টাকা কেজি। তাই ২০ টাকার দেশি আদা কিনে নিলাম। এ কয়টি পণ্য কিনতেই আমার খরচ হলো ২৮৫ টাকা।

আমার কাছে রইলো আর মাত্র ২১৫ টাকা। এটি নিয়ে গেলাম মুরগির দোকানে। এ টাকায় একমাত্র ব্রয়লার পাওয়া গেল। দেশি মুরগি ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। ৪০০ টাকার উপরে কেজি। তবে ব্রয়লারের দাম কিছুটা কম। ১৩০ টাকা কেজি নিলাম। একটি মুরগিই এক কেজির বেশি। তা কিনতে ১৮০ টাকা খরচ হলো।

সব মিলিয়ে ৪৬৫ টাকার বাজার করেছি। এ টাকায় কিনতে পেরেছি এক কেজি আলু, আধা কেজি করে শিম আর টমেটো, আধা পোয়া কাঁচা মরিচ, আধা কেজি পেঁয়াজ, ২০ টাকার আদা, আর একটি ব্রয়লার মুরগি। যদিও এখনো তেল কিংবা চাল-ডালের দোকানে যেতে পারিনি। এর আগেই সবজির বাজারেই পকেট কেটে দিয়েছে। তাই অসন্তোষেই শেষ করলাম বাজারটা।

এতগুলো টাকার সবজি নেওয়ার সুবাদে ৩০ টাকা দিয়ে একটা কোমল পানীয় কিনলাম পরিবারের সবাই মিলে খাওয়ার জন্য। আর বাকি ৫ টাকা বাচিয়ে মানিব্যাগে রেখে দিলাম। আর চিন্তা করলাম, আগামী কয়েক মাস বাজারে যাওয়া বন্ধ রাখব।

লেখক: শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী।

এসইউ/এএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]