শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে হাজির কুয়াশামাখা ভোর
ইমন ইসলাম
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রানি খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ঋতু পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাস প্রকৃতিও সেজে ওঠে ভিন্ন রূপে। শরতের শেষ বিকেলে পাতা ঝরা হেমন্ত কড়া নাড়ছে ক্যাম্পাস প্রকৃতিতে।
হেমন্তের মিষ্টি বিকেলে কুয়াশার চাদর জড়িয়ে ক্যাম্পাস জমিনে নেমেছে হাড় কাঁপানো শীত। অন্যান্য ঋতুর মতো জাবি ক্যাম্পাসে শীত ঋতু এসেছে উৎসবের আমেজে।
দূর্বা ঘাসে কিংবা গাছের কচিপাতায় মুক্তার মতো আলো ছড়িয়ে ভোরের শিশির জানান দিচ্ছে শীত আসছে। ঘন কুয়াশা ভেদ করে পূর্ব দিগন্তে সূর্যের উদয়। অন্যান্য স্থানের মতো জাবি ক্যাম্পাসেও শীতের ঘনঘটা শুরু হয়েছে।

ক্যাম্পাসের দিগন্ত জোড়া মাঠ ও পিচঢালা পথে শীতের আমেজ বিরাজ করছে। ভোর সকালে ক্যাম্পাস অঙ্গনে পড়তে শুরু করেছে হালকা কুয়াশা। সেইসঙ্গে অনুভূত হচ্ছে মৃদু ঠান্ডা।
প্রতিবারের মতো এবারও বর্ষার ঘনঘটা শেষ করে কার্তিকের কোল জুড়ে শীতের আগমন ঘটেছে। শীত যেন ক্যাম্পাস প্রকৃতিতে আনে ভিন্নমাত্রা। এদিকে শীতের আমেজ শুরু হতে না হতেই ক্যাম্পাস অঙ্গনে পাখির পদচারণা বেড়েছে।

পাখির কিচিরমিচির শব্দে ভরে উঠেছে ক্যাম্পাস প্রকৃতি। ঘন গাছপালার মধ্যে দিয়ে কুয়াশার লুকোচুরি খেলা বেশ শোভা ছড়াচ্ছে। ভোর হলেই শীতের সকাল দেখতে বেরিয়ে পড়ছেন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।
ক্যাম্পাসের গাছগুলো পাতাশূন্য হতে শুরু করেছে। শিশিরস্নাত সকাল, রোদমাখা দুপুর, পাখির কিচিরমিচির শব্দ, ভেজা সন্ধ্যা আর মেঘমুক্ত আকাশে জোৎস্না ডুবানো আলোকিত রাত আরও রহস্যময় করে তোলে ক্যাম্পাসপ্রেমীদের।

শীতের কুয়াশামাখা ভোরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে চৌরঙ্গী মোড় ও লেকপাড়। কুয়াশাভেদ করে সূর্যের মিটমিট আলোতে যেন চারপাশ আচ্ছাদিত হয়। শীতের সকালে ক্যাম্পাসের চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকে।
কুয়াশা ভেদ করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ঝাপসা ছবিগুলো যেন এক কল্পকাহিনীর সৃষ্টি করে। জাহাঙ্গীরনগরের শীত মানেই গায়ে চাদর জড়িয়ে ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে চায়ের আড্ডায় মেতে ওঠা।

বাহারি ভর্তা আর গরম ভাত খাবার ধুম। শীত আসলে ক্যাম্পাস যেন নতুন রূপে সাজে। শীত এলেই ক্যাম্পাসের লেকে লেকে অতিথি পাখির সমাগম ঘটে। রং-বেরঙের পাখিদের কলতানে মুখর হয়ে ওঠে লেক পাড়গুলো।
শীত আসলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেন আনন্দ উৎসবের সঞ্চার ঘটে। ক্যাম্পাসে গড়ে ওঠা চত্ত্বরগুলো চায়ের কাপের টুং টাং শব্দে ভরে ওঠে। হাঁসি-ঠাট্টা আর সঙ্গীতের তালে তালে সৃষ্টি হয় শত শত গল্প ও কবিতা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী নাহরাইন জান্নাত বলেন, ‘শীতের আগমনে প্রকৃতি সেজে ওঠে ভিন্ন এক আমেজে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে শীতের আগমনী বার্তা।’
‘এখানে শীতের আগমন ঘটে একটু ভিন্নভাবে। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে অতিথি পাখিরা। জমে ওঠে পিঠে-পুলির আড্ডা। প্রকৃতি সেজে উঠছে এক অপরূপ রূপে। সবুজ ঘাসের উপর মুক্তোর দানার মতো ছড়িয়ে থাকা শিশির বিন্দু আর চারদিকে অতিথি পাখির কিচিরমিচির শব্দ জানান দিচ্ছে শীত এসে গেছে।’

বাংলা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আরাফাত ইব্রাহিম বলেন,‘আসলে গ্রামের শীতের যে আমেজ তার সঙ্গে জাবি ক্যাম্পাসের শীতের আমেজের কোনো পার্থক্য নেই। তবে অতিথি পাখির কলতান শীতের আমেজকে আরও বাড়িয়ে তোলে। দীর্ঘদিন পর কুয়াশামাখা ভোর দেখে বেশ আনন্দিত।’
লেখক: শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
জেএমএস/এএসএম