আবার জমবে আড্ডা ও কোলাহল!

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৩৩ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২১

জাফর আহমেদ শিমুল

ক্যাম্পাস ও আড্ডাপ্রিয় সব শিক্ষার্থীদেরই প্রিয় জায়গা হলো নিজ নিজ বিদ্যাপীঠ। সবার ভালোবাসা ও আকর্ষণের বৃহৎ একটি জায়গা জুড়েই থাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রিয় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ।

ক্যাম্পাস বলতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে শুধু ইট-পাথর-বালুর সমন্বয়ে তৈরি কোনো শক্ত ও প্রাণহীন ইমারত নয়। এমনকি লোহা-কাঠ দিয়ে প্রস্তুতকৃত চেয়ার-টেবিলের জড় কোনো বস্তুই নয়।

jagonews24

বরং সব আশা-আকাঙ্ক্ষা, আবেগ, স্মৃতি, আড্ডা, বিভিন্ন ইভেন্টসহ নিজস্ব আবেগ-অনুভূতি ও পরিপূর্ণ ভালোবাসার নামই হলো ক্যাম্পাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নীল দিনগুলো অনেকেরই ভালোবাসা ও স্বপ্নের মতোই কাটছিলো। তবে হঠাৎই হানা দিলো প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। পুরো বিশ্বের সব শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনজীবনকে এই ভাইরাস করে তুলেছে অতিষ্ঠ।

jagonews24

দেশের সব সরকারি-বেসরকারি ক্যাম্পাসকে করেছে নিস্তব্ধ, বানিয়েছে মরুভূমি ও অসাড়। আড্ডাময় প্রাণবন্ত ক্যাম্পাসকে করে তুলেছে প্রাণহীন ও নির্জীব। সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদিও স্কুল-কলেজ খুলেছে।

তবে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কবে খুলবে সে বিষয়ে এখনো পাওয়া যায়নি সঠিক নির্দেশনা। ক্যাম্পাস খোলার সম্ভাব্য দিন-তারিখ দেখেও ক্যাম্পাসপ্রেমীরা আবারও আশায় বুক বাঁধছে।

প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে ঘেমে-নেয়ে কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে আবার কখনো ঝুলে লোকাল বাসে করে বাসায় ফেরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুময় দিনগুলোর স্মৃতি স্মরণ করেই চলেছি বারবার।

jagonews24

ব্যস্ত নগরীর কর্মব্যস্ত মানুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রিয় ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে সকালে ঘর থেকে তাড়াহুড়া করে বেরিয়ে পড়া। শুরুতেই ক্যাম্পাসের প্রবেশমুখে দ্বাররক্ষীর দায়িত্বে থাকা নিরীহ মানুষগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনন্দে-সানন্দে মূল ফটকে প্রবেশ করা।

শিডিউল ক্লাস শুরু করার আগেই ছোট্ট আড্ডা দেওয়া, কূশল বিনিময় করা।
তারপর ক্লাস শুরু করা। মনোযোগে ছেদ পড়লে বন্ধুরা মিলে ক্লাস বাঙ্ক করা সেসব এখন শুধুই স্মৃতি।

প্রায় দীর্ঘ ১৯ মাস ক্যাম্পাসে নেই আমাদের পদচারণা। নেই সকাল-সকাল ক্লাস ধরার মিষ্টি যন্ত্রণা। সকালে ক্লাস ধরবো বলে রাতে দ্রুত ঘুমাতে যাওয়া। নেই সকালে ঘুম থেকে উঠে পড়া কিংবা দ্রুত তৈরি হয়ে ক্যাম্পাসে রওনা দেওয়া।

jagonews24

একই সঙ্গে বন্ধুদের নিয়ে গিটার,পার্কেশন ও ম্যান্ডেলিন নিয়ে দীর্ঘ আড্ডা ও কোলাহলের আসরও এখন আর নেই। ক্লাসে হইচই করা আবার শিক্ষক-শিক্ষিকা এলে হকচকিয়ে সুবোধ বালক সেজে চুপটি মেরে ক্লাসে বসে থাকার সুযোগও নেই।

সেই সোনালি দিনগুলো করোনাভাইরাসের অদৃশ্য ছোবলে হারিয়ে বিলীন হয়ে গেছে। আমাদের মতো প্রাণবন্ত ও আড্ডামুখর শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে ক্যাম্পাস দখল করে আছে অজস্র ধুলাবালি, কীটপতঙ্গ ও মাকড়সার জাল!

jagonews24

ক্যাম্পাসে সংবাদ সংগ্রহের নিমিত্তে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের আনাগোনা থাকলেও এখন ভর করেছে নিরবতা ও গভীর নিস্তব্ধতা। স্বপ্নময় ক্যাম্পাস থেকে বিরহ-বিচ্ছেদের সুর ভেসে ভেসে আঘাত হানে স্বপ্নবাজ ও আড্ডাবাজ শিক্ষার্থীদের হৃদয়গহীনে।

মহামারি করোনার কবলে পড়া ক্যাম্পাস কবে ফিরে পাবে প্রাণ?
সব অপেক্ষার কবে হবে অবসান? ক্যাম্পাসে নতুন সুরে আড্ডাবাজরা কবে গাইবে নতুন জয়গান?

jagonews24

নতুন সম্ভাবনাময় দিনের আশায় আবারও শিক্ষা জীবনের গতি সঞ্চারিত হবে। শিক্ষার্থীদের পদচারণায়,মুখরতায়, প্রাণবন্ত ও শৈল্পিক আড্ডায় প্রাণ ফিরে পাবে প্রিয় বিদ্যাপীঠের প্রিয় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ।

লেখক: শিক্ষার্থী,সংস্কৃতিকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মী

জেএমএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]