লারা বললেন বিতর্কিত, শচীনের দেশপ্রেম


প্রকাশিত: ১২:০১ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৫

ক্রিকেট বিশ্বকাপের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে বাংলাদেশকে ১০৯ রানে হারিয়েছে ভারত। বলা চলে আইসিসিকে সঙ্গে নিয়ে ক্রিকেটের তিন মোড়লের এক মোড়ল ভারত টাইগারদের প্রায় তাড়িয়েই দিলো। ম্যাচ আম্পায়ারদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তই এর মূল কারণ।

এই ম্যাচ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ সংগঠন আইসিসি। সমালোচনা করছেন বিশ্ব ক্রিকেট সাবেক-বর্তমান তারকারাও।

গতকাল ম্যাচ চলাকালীন সময়ে আম্পায়াররা যখন একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েই চলেছেন তখন স্পোর্টস বক্সে অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট মার্ক ওয়াহ ক্রিকেটর রাজপুত্রখ্যাত ব্রায়ান লারার কাছে জানতে চান, ‘কী ভাই, আম্পায়াররা কি ঠিক সিদ্ধান্ত দিচ্ছে?’ রোহিত শর্মার আউট না দেয়ায় অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক এমন প্রশ্ন তোলার আগে ব্রায়ান লারা নিজেই স্বগতোক্তির ভঙ্গিতে বলে উঠেছিলেন, এটা আউট দিল না? মার্ক ওয়ার জবাবে তাই, তিনি কেটে কেটে বললেন, ‘এটা একটা অবিশ্বাস্য সিদ্ধান্ত।’ ব্রায়ান লারা পরে খেলা শেষে বলেন, ‘একটা নয়, দুটো সিদ্ধান্ত, এদিন, বাংলাদেশের বিপক্ষে গেছে। এবং এজন্য, বাংলাদেশকে অবশ্যই ভুগতে হলো।’

ভোগা মানে, এমন দু’জন ব্যাটসম্যানকে বাঁচানো হল, যাদের ব্যাটে, ভারত ৩০২ পর্যম্ত পৌঁছে গেল। ব্রায়ান লারা মনে করেন, রোহিত শর্মা ৯০ রানের মাথায় যে ক্যাচ তুলেছিলেন, তা মোটেই বীমার ছিল না। আর সুরেশ রায়না পরিষ্কার এল বি ডব্লু ছিল। মাশরাফির বল রায়নার ব্যাটে লাগেনি। লেগেছিল হাঁটুর নিচে। পরিষ্কার এলবিডব্লিউ।’ তখন সুরেশ ১০ রানে ব্যাট করছিলেন। ওই সময় রোহিত বা রায়নাকে আউটের সিদ্ধান্ত দিয়ে দিলে, ভারত, হয়ত ৩০০-র সীমানা পারতো না।

লারার মতো এই ম্যাচে আম্পায়ারিংয়ের সমালোচনা করেছেন ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার ভিভিএস লক্ষণ। ম্যাচটিতে আইসিসি ও আম্পায়ারদের নানা দুর্বলতার অভিযোগ করেছেন অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার শেন ওয়ার্ন, দুই পাক ক্রিকেটার শোয়েব আক্তার ও শোয়েব মালিক, আফ্রিকান বর্তমান অধিনায়ক এভিডি ভিলিয়ার্সসহ অনেক ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।

এই যখন কিংবদন্তি লারা ও বিভিন্ন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, তখন আরেক ক্রিকেট কিংবদন্তি নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে মুখর রইলেন দেশপ্রেমে। বলছি ভারতের ব্যাটিং সুপারস্টার শচীন রমেশ টেন্ডুলকারের কথা। তিনি গতকাল ভারতের জয়ের পর দলকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ব্যাটিং-বোলিং দিয়ে বাংলাদেশকে দারুণভাবে রুখে দিয়েছে ধোনীরা। তিনি একবারও ম্যাচের বাজে বিষয়গুলো তুলে আনেননি।

ফেসবুকে তার এমন নীতি-বিবেবহীন স্ট্যাটাস ব্যাথিত করেছে বাংলাদেশিদের। কেননা, শচীনকে বরাবরই এদেশের মানুষেরা শ্রদ্ধা করেছেন, ক্রিকেটীয় বন্ধু ভেবেছেন। কিন্তু তিনি বিশ্ব তারকা হয়েও পরিচয় দিলেন ছোট মনের। নিজেকে আটকে রাখলেন স্বস্তা দেশপ্রেমের গন্ডিতেই।

শচীনের মতোই বাংলাদেশের পরাজয়ে নির্লজ্জ আনন্দ প্রকাশ করলেন ভারতের বাঙ্গালি সাবেক ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলি। তিনি কমেন্ট্রি বক্সে থেকেও আম্পায়ারের ভুলগুলোকে স্বীকার করেননি। বরং খেলা শেষে ফেসবুকে স্ট্যাটাস আপডেট করেছেন, বাংলাদেশের সাথে এই জয় নাকি ‘ডিজার্ভ’ করে ভারত।

এমনকী এই খেলার ভুল নিয়ে মুখ খুলেননি সুনীল গাভাস্কার, অরুণ লাল, কপিল দেবদের কেউই। নকল করে পাশ করার মতোই এরা সবাই নীরব হয়ে আছেন।

এটা আজ স্পষ্ট, গতকালের খেলায় চিরকালীন বৈরীতা শুরু হলো বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেটের। সেইসাথে সম্মানের জায়গাটিও হারিয়ে ফেললেন ক্রিকেটে ভারতীয় মহানায়কেরা। যারা এতদিন শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন বাংলাদেশিদের অন্তরে অন্তরে। এটা আমাদের নিশ্চয় খুব কষ্ট দিবে-আমরা তাদের আর মহানায়ক বলতে পারবো না, সার্বজনীন বলতে পারবো না। কারণ, মহানায়ক ও সার্বজনীনন মানুষেরা স্বার্থের কাছে বিবেক বিক্রি করে না। তারা সত্যের পথে চলেন নির্ভীক।

এলএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।