সুনামগঞ্জে মা ও শিশুদের সেবা গ্রহণের হার বেড়েছে ৩ গুণ


প্রকাশিত: ১১:০৭ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০১৭
সুনামগঞ্জে মা ও শিশুদের সেবা গ্রহণের হার বেড়েছে ৩ গুণ

গত তিন বছরে সুনামগঞ্জে মা ও শিশুর দক্ষ সেবা গ্রহণের হার বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি। এ জেলায় দক্ষ স্বাস্থ্যসেবাদানকারীদের কাছ থেকে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সদস্য সেবা পেয়েছেন। এছাড়া সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় শিশুমৃত্যুর হার কমেছে অনেকাংশে।

বিশেষ করে এ জেলায় ৩শ’ দক্ষ স্বাস্থ্যসেবাদানকারী তৈরিতে সহায়তা করেছে কেয়ার-জিএসকে। এসব দক্ষ স্বাস্থ্য উদ্যোক্তাদের শতকরা ৫০ ভাগ প্রতিমাসে পাঁচ হাজার ও তার বেশি টাকা আয় করছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশান লেকশোর হোটেলে কেয়ার-জিএসকে কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার ইনিশিয়েটিভের মধ্যবর্তী মূল্যায়নের ফলাফল ও শিখন বিনিময় ইভেন্টে অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি পরিচালিত মা ও শিশুস্বাস্থ্য জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব নাহিদ সুলতানা মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুগ্মসচিব (প্রশাসন) আব্দুল গফ্ফার খান প্রধান।

এছাড়া অধিদফতরের পরিচালক প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা ডা. জাহাঙ্গীর আলম সরকার, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর পরিচালক মা ও শিশুস্বাস্থ্য ডা. মো. শরীফ, গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের ডেবিড প্রিটচার্ড ও কেয়ার ইউকে আফ্রিকা ও এশিয়া অঞ্চলের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মি. আন্দ্রেজ গোঞ্জালো উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, এটা স্পষ্ট যে দুর্গম এলাকাগুলোতে সেবা প্রদানের কৌশলগুলো কাজ করছে না। এই পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ উদ্যোগটি সুনামগঞ্জে মা ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়নে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশেষ করে শিশুমৃত্যুর হার কমাতে এবং দরিদ্র ও হতদরিদ্রের মধ্যে সেবা প্রদানে অসমতা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে।

তিনি সব উন্নয়ন সহযোগী ও জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠনসমূহকে এই উদ্যোগের শিখন ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। বিশেষ করে হাওর, চর, উপকূল প্রভৃতি দুর্গম এলাকাগুলোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য।

বিশেষ অতিথি ডা. জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, যে ৩০০ জন স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে তারা সবাই স্থানীয় এবং এই প্রকল্প শেষে স্থায়ীভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন। এই উদ্যোগটি স্থানীয় সরকার এবং কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপের সঙ্গে ওতোপ্রতভাবে জড়িত।

অনুষ্ঠানে ডা. মো. শরীফ বলেন, এই উদ্যোগটি স্থায়ী সেবা প্রদানের সিস্টেমের ক্ষেত্রে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত যা সরকারের কাজকে এই ধরনের দুর্গম এলাকাতে পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে।

এমইউ/বিএ