কিডনি রোগ শনাক্তে জাতীয় চিকিৎসা নির্দেশিকা প্রকাশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৭ পিএম, ১২ মার্চ ২০২৬

দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ দ্রুত শনাক্ত, নির্ণয় ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি জাতীয় চিকিৎসা নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এই নির্দেশিকা প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগ শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনায় কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অবহিতকরণ সভায় এ নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৈজ্ঞানিক কর্মদল এই নির্দেশিকা প্রণয়ন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে না এবং গুরুতর অবস্থায় গিয়ে শনাক্ত হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রায় প্রতি চারজনের মধ্যে একজন কোনো না কোনোভাবে কিডনি সমস্যায় ভুগছেন, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বেশি। প্রতি বছর প্রায় ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার মানুষ কিডনি বিকল হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছান। এতে দেশের সীমিত ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপন সুবিধার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, কিডনি রোগ অনেক সময় নীরবে বাড়তে থাকে। ফলে অনেক রোগী শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে বুঝতেই পারেন না যে তাদের কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে পানির লবণাক্ততা, অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় কাজ করা এবং পানির মানের অবনতিও কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

নতুন এই নির্দেশিকার লক্ষ্য হলো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মধ্যেই কিডনি রোগের পরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা যুক্ত করা। এ ব্যবস্থায় কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের প্রাথমিক পরীক্ষা করবেন এবং সন্দেহভাজন রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠাবেন। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকেরা নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী রোগ নির্ণয়, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা করবেন।

অসংক্রামক রোগ ও পরিবেশগত পরিবর্তন বিষয়ক বৈশ্বিক স্বাস্থ্য গবেষণা কেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় এই নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনা তথ্যব্যবস্থার ডিজিটাল স্বাস্থ্য প্ল্যাটফর্মে এটি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সহজেই এই নির্দেশনা ব্যবহার করতে পারেন। এ গবেষণায় অর্থায়ন করছে যুক্তরাজ্য সরকারের জাতীয় স্বাস্থ্য ও সেবা গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. শেখ সাইদুল হক বলেন, এই নির্দেশিকা বাংলাদেশে কিডনি রোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কমিউনিটি ও উপজেলা পর্যায়ে আগাম শনাক্তকরণ নিশ্চিত করা গেলে অনেক মানুষকে কিডনি রোগের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক লাইন পরিচালক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী কিডনি রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাই স্ক্রিনিং ও রোগ নির্ণয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ডা. আলিয়া নাহিদ বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে আগাম হস্তক্ষেপ রোগে মৃত্যুহার এবং চিকিৎসা ব্যয় উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। আমরা আশা করি নির্দেশিকাটি দ্রুত সারাদেশে কার্যকর করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ধাপে ধাপে দেশের সব প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এই নির্দেশিকা চালু করা হবে। এজন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে।

এসইউজে/এমআইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।