ধূমপান পরিহারে সিওপিডি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:০৪ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০১৮

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্ষব্যাধি (রেসপিরেটরি) বিভাগের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারের মধ্য দিয়ে বুধবার বিশ্ব সিওপিডি দিবস পালিত হয়েছে।

শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ ক্রনিক অবসট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজটি সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেসপিরেটরি বিভাগের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বক্ষব্যাধি (রেসপিরেটরি) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশরারফ হোসেন।

এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ ছাড়াও বক্ষব্যাধি (রেসপিরেটরি) বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন, সিওপিডি রোগীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার যাতে মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে থাকে সেটা বিবেচনায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে পালমোনারি রিহ্যাবিলেটশন সেন্টার (ফুসফুসের রোগীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র), রেসপিরেটরি আইসিইউ, রেসপিরেটরি ইমাজেন্সি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে।

বিশেষ অতিথি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম তার বক্তব্যে সিওপিডি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং বস্তিসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম নেয়ার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ সিওপিডি ধূমপায়ীদের বেশি হতে দেখা যায়। এটা ফুসফুসের একটা অসুখ, যা হলে নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। সিওপিডি'র ফলে কাশি দেখা দেয়, সেই সঙ্গে কফ, নিঃশ্বাসে সাঁ সাঁ শব্দসহ নানা উপসর্গ থাকে।

তিনি বলেন, ধূমপানের সঙ্গে এই অসুখটি যুক্ত। যাদের এটা হয়, তাদের অনেকেই ধূমপান করেন বা এককালে করতেন। এ ছাড়া বাতাসের দূষণ, ধুলো, ধোঁয়া, ইত্যাদি যা আমাদের ফুসফুসে প্রদাহের সৃষ্টি করে, এর জন্যও এই রোগটি দেখা দিতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০০২ সাল থেকে জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই দিবসটি প্রতিপালিত হয়ে আসছে। এবারের থিম- ‘আসুন, সিওপিডি প্রতিরোধ করি, সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন গড়ি।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পৃথিবীতে সিওপিডি রোগীর সংখ্যা ৮০ মিলিয়ন। এক পরিসংখ্যান মতে, ২০০৫ সালে তিন মিলিয়ন লোক এই রোগে মারা গেছেন। ২০০২ সালে সেখানে সিওপিডি রোগ মৃত্যুর পঞ্চম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল, নিকট ভবিষ্যতে তা তৃতীয় মৃত্যুরর কারণ হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগরীতে বক্ষব্যাধি বিভাগ, বিএসএমএমইউ কর্তৃক পরিচালিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঢাকায় ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বের জনসংখ্যার ১১ দশমিক ৪ ভাগ সিওপিডি রোগে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে ১১ দশমিক ৭ ভাগ পুরুষ এবং ১০ দশমিক ৬ ভাগ নারী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিগারেট ও তামাক কোম্পানিগুলো বন্ধ হলে হ্রাস পাবে সিওপিডিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, সেইসঙ্গে স্বাস্থ্যখাতের ব্যয়ও অনেকটাই কমে আসবে। কারণ, ধূমপান ও তামাজাত দ্রব্য সেবনের কারণে শ্বাসকষ্ট, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।

তারা বলেন, ধূমপান পরিহার ও পরিবেশ দূষণ রোধের মাধ্যমে সিওপিডি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। বর্তমানে নারী ধূমপায়ীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে- এটাও প্রতিরোধ করতে হবে। সিওপিডি রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ধূপমান নিরাময় কেন্দ্র, এনসিডি (নন কমিউনিকেবল ডিজিজেস) কর্নার, পালমোনারি রিহ্যাবিলেটশন সেন্টার (ফুসফুসের রোগীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র), রেসপিরেটরি আইসিইউ, রেসপিরেটরি ইমার্জেন্সি প্রতিষ্ঠা জরুরি।

বক্ষব্যাধি (রেসপিরেটরি) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশরারফ হোসেন বলেন, সিওপিডি একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ। এই রোগটি প্রতিরোধে গ্রামে-গঞ্জে পরিবেশবান্ধব চুলার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান বিশ্বে সিওপিডি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৮ ভাগ। বাংলাদেশে এ সংখ্যা প্রায় ১০ ভাগ, যারা ধূমপান করে তাদের মধ্যে এই সংখ্যা ১২ ভাগ। আর অধূমপায়ীদের মধ্যে এই সংখ্যা ৩ ভাগ।

এমইউ/জেডএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :