ট্রাম্পের শুল্কের বিরুদ্ধে ইইউ’র কঠোর আইনি পদক্ষেপের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৩৫ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প/ ছবি: এএফপি

গ্রিনল্যান্ড দখল পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় যুক্তরাষ্ট্র যদি আরোপিত শুল্ক কার্যকর করে, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) তাদের শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা ‘অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ সক্রিয় করার আহ্বান জানাবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। রোববার (১৮ জানুয়ারি) তার দপ্তরের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।

‘অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ হলো অর্থনৈতিক চাপ বা জবরদস্তি মোকাবিলা করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি আইনি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে কোনো তৃতীয় দেশ যদি রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক চাপ প্রয়োগ করে, তবে ইউ পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে। এটি মূলত অর্থনৈতিক হাতিয়ার ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টিকে প্রতিহত করতে প্রণয়ন করা হয়েছে, যেমন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বা অন্যান্য পাল্টা ব্যবস্থা।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই ব্যবস্থাটি আগে কখনো ব্যবহার করা হয়নি। একে জোটের বাণিজ্যিক ‘বাজুকা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। এই আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে পণ্য ও সেবার আমদানি সীমিত করা সম্ভব।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য ইস্যুতে চাপ মোকাবিলার উপায় হিসেবে এর আগে এই ব্যবস্থার কথা আলোচিত হয়েছে। এখন যুক্ত হয়েছে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড, যেটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অধিগ্রহণ করতে চান।

এর আগে জার্মানির প্রকৌশল শিল্পের সংগঠনও ইউরোপীয় কমিশনকে এই ‘অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিল।

জার্মান প্রকৌশল সমিতি ভিডিএমএ’র সভাপতি বার্থ্রাম কাউলাথ এক বিবৃতিতে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি এখানে নতি স্বীকার করে, তাহলে তা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে আরও হাস্যকর দাবি তুলতে এবং নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি দিতে উৎসাহিত করবে।

এদিকে, গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের আটটি দেশের ওপর এরই মধ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন এই শুল্ক আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। অন্য ৫টি দেশ হলো- ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর বারবার গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান, প্রতিরক্ষা গুরুত্ব ও বিপুল খনিজ সম্পদের কথা উল্লেখ করে এই দাবি করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডের জন্য একজন বিশেষ দূত নিয়োগ দিয়েছে, যা ডেনমার্কে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা পাবে। কারণ, আর্কটিক অঞ্চলে এর কৌশলগত অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সেখানে উচ্চপ্রযুক্তি খাতে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল খনিজ সম্পদ রয়েছে। এমনকি, এই দ্বীপ দখলের জন্য তিনি শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।

প্রায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সাল থেকে ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে আসছে। তবে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনো ডেনমার্কের হাতে রয়েছে। যদিও গ্রিনল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ ভবিষ্যতে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চান, তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে- যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিষয়ে গ্রিনল্যান্ডবাসীদের মধ্যে ব্যাপক ও দৃঢ় বিরোধিতা রয়েছে।

সূত্র: এএফপি

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।