‘স্বাধীনতা জোট’: বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ম্যাক্রোর নয়া প্রস্তাব
বিশ্বে চলমান অস্থিরতা মোকাবিলায় একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চয়তা এবং চীনের আধিপত্য মোকাবিলায় একটি ‘স্বাধীনতা জোট’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে ইয়োনসেই বিশ্ববিদ্যালয় ও অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই জোট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
ম্যাক্রো এমন একটি ব্যবস্থার কথা বলেন যা ‘সক্ষম ও ইচ্ছুক দেশগুলোর’ সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে এবং যাকে তিনি ‘স্বাধীনতা জোট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এটি কারও বিরুদ্ধে করছি না; বরং অন্যদের সঙ্গে মিলেই করতে চাই।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ম্যাক্রোঁ সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে নিষ্ক্রিয় থাকা উচিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও স্থিতিশীলতার ওপর বিশ্ব নির্ভর করেছিল, তা এখন পুরোপুরি নড়বড়ে হয়ে গেছে। আমাদের একটি নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমেরিকান শুল্ক এবং চীনের অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতার’ মধ্যে ইউরোপকে তার নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা রক্ষা করতে হবে।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের প্রভাবশালী শক্তির (চীন ও যুক্তরাষ্ট্র) অধীনস্থ হয়ে পড়া উচিত নয়। দেশগুলোকে চীনের ‘আধিপত্য’ থেকে নির্ভরতা এড়াতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘অনিশ্চয়তা’র ঝুঁকি থেকেও দূরে থাকতে হবে।
তার মতে, চীন ভর্তুকি, অতিরিক্ত উৎপাদন এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব বাড়াতে চাইছে, আর যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ও বহির্দেশীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছে
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে ম্যাক্রো বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবেষণা ও বিজ্ঞান খাতে সহযোগিতা ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছরে আমরা এই সহযোগিতার একটি ভাঙন দেখেছি। কিছু দেশ সহযোগিতা বন্ধ করে দিতে শুরু করেছে। আমাদের কিছু সময়ের জন্য প্রতিযোগিতা থামানো উচিত এবং ভাবতে হবে কীভাবে সঠিক সমঝোতা গড়ে তুলে একসঙ্গে কাজ করা যায়।
তিনি ইউরোপকে একটি ‘অত্যন্ত আকর্ষণীয় মহাদেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা আধুনিকায়ন ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে এবং যেখানে আইন ও নিয়ম মেনে চলা হয়। তিনি আরও জানান, ইউরোপ ‘মেড ইন ইউরোপ’ ধরনের একটি নীতি এগিয়ে নিচ্ছে, যা উত্তর আমেরিকার নীতির মতো।
কেএম