তুরস্কের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে যা জানা গেলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৫৪ পিএম, ০৭ মে ২০২৬
তুরস্কের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

মধ্যপ্রাচ্য ও ন্যাটো জোটে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উন্মোচন করেছে তুরস্ক।

‘ইলদিরিমহান’ নামের এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ইস্তাম্বুল এক্সপো সেন্টারে অনুষ্ঠিত এসএএইচএ ২০২৬ প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে প্রকাশ করা হয়। তুর্কি ভাষায় ‘ইলদিরিমহান’ শব্দের অর্থ বজ্রপাত। এটি দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র তৈরি করেছে।

ইলদিরিমহান ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৬ হাজার কিলোমিটার। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টসের তথ্যমতে, ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে আইসিবিএম হিসেবে ধরা হয়। তুরস্ক থেকে উৎক্ষেপণ করলে এই ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।

তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটির সর্বোচ্চ গতি ম্যাক ২৫, অর্থাৎ শব্দের গতির ২৫ গুণ। এতে চারটি রকেট ইঞ্জিন রয়েছে এবং এটি তরল নাইট্রোজেন টেট্রক্সাইড জ্বালানিতে চলে। এর ওয়ারহেডে ৩ হাজার কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহনের সক্ষমতা রয়েছে।

তবে এখনো এই ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন শুরু করেনি তুরস্ক।

প্রদর্শনীতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের বলেন, বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক ব্যয়ও এক ধরনের অসম যুদ্ধাস্ত্র হয়ে উঠেছে। তুরস্ক তার মিত্রদের শুধু অস্ত্র নয়, প্রযুক্তি ও টেকসই নিরাপত্তা অর্থনীতিও দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আইসিবিএম উন্মোচন তুরস্কের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত অগ্রগতি।

জার্মান মার্শাল ফান্ডের আঞ্চলিক পরিচালক ওজগুর উনলুহিসারচিকলি বলেন, তুরস্কের সামনে তাৎক্ষণিক এমন কোনো হুমকি নেই, যার জন্য আইসিবিএম জরুরি। তবে এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার সক্ষমতা অর্জনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ইস্তাম্বুলভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক বুরাক ইয়িলদিরিম বলেন, এই প্রযুক্তি তুরস্কের মহাকাশ কর্মসূচির সঙ্গেও সম্পর্কিত। কারণ মহাকাশে রকেট পাঠানো এবং আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির মধ্যে অনেক মিল রয়েছে।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে যা দেখানো হয়েছে তা মূলত একটি ধারণাগত মডেল। এখনো কোনো পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, ইরান-ইসরাইল সংঘাত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুরস্ককে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে উৎসাহিত করেছে।

বিশেষজ্ঞ আলী বাকির বলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও প্রতিরোধ সক্ষমতার প্রতীক। এটি দেখায় যে আঙ্কারা আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের নেতৃত্বে তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার নীতি অনুসরণ করছে।

বর্তমানে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থায়ী সেনাবাহিনী রয়েছে তুরস্কের। দেশটি এখন বিশ্বের অন্যতম বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক হিসেবেও পরিচিতি পাচ্ছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতের রপ্তানি ১০ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।