‘ট্রেড ওভার এইড’ উদ্যোগ
জাতিসংঘে বাজেট সহায়তা কমানোর হুমকি, সংস্কার চায় যুক্তরাষ্ট্র
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা খাতের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন কোম্পানিগুলোর সুবিধার্থে বাণিজ্যকেন্দ্রিক নীতি গ্রহণ না করলে সহায়তা বাজেট আরও কমানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এরই মধ্যে ইউএস এইড-এ ব্যাপক ছাঁটাই হয়েছে এবং এর বাকি কার্যক্রম মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের অধীনে নেওয়া হয়েছে। এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়েছে এবং বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বন্ধ হওয়ায় এতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউএন, হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল এবং ইউনেস্কোসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতি সহায়তাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘে ‘ট্রেড ওভার এইড’ (সহায়তার বদলে বাণিজ্য) উদ্যোগ উন্মোচন করে যুক্তরাষ্ট্র। এই উদ্যোগে দাতা-নির্ভর উন্নয়ন সহায়তা থেকে সরে এসে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এটিকে মুক্তবাজারভিত্তিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ভিশন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেনেভা ও নিউইয়র্কে প্রচারিত মার্কিন কূটনৈতিক নোটে এসব বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। এই কূটনৈতিক বার্তায় বলা হয়েছে, এজেন্ডা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চাপ দিতে বাজেট হ্রাসের হুমকি বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র।
একটি নোটে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ নির্দিষ্ট কিছু ব্যয়সংকোচন সংস্কার বাস্তবায়ন করলে তবেই যুক্তরাষ্ট্র তার চাঁদার ‘গুরুত্বপূর্ণ অংশ’ পরিশোধ করবে। এর মধ্যে রয়েছে পেনশন স্কিম পুনর্গঠন থেকে শুরু করে ভ্রমণ ব্যয় কমানো। এছাড়া শান্তিরক্ষা মিশনে ১০ শতাংশ কাটছাঁটের বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
গত বছর ইউএসএইড ভেঙে দেওয়ার সময় প্রায় ১৬ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার ঠিকাদার, অংশীদার ও স্থানীয় কর্মচারী চাকরি হারান।
অক্সফাম আমেরিকার তথ্য মতে, অন্তত ২ কোটি ৩০ লাখ শিশু শিক্ষার সুযোগ হারাতে পারে এবং প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। বছরে ৩০ লাখের বেশি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুও ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছে।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই মাসে ইরানের ভেতরে ৩২ লাখ এবং লেবাননে ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সংস্থাটির ৩০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি আগামী তিন মাসে ৬ লাখ মানুষকে সহায়তা দিতে অতিরিক্ত ৬১ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।
সংস্থাটি জানায়, বিশেষ করে লেবানন, সিরিয়া, ইরান ও আফগানিস্তানে তাদের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে অর্থের অভাবে ভুগছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর বিশ্বজুড়ে ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে সহায়তার জন্য ২৩ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েছে, যার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এখন পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিওএফও) সতর্ক করেছে, যুদ্ধ চলতে থাকলে এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে আরও প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারে।
এই কূটনৈতিক নোট প্রকাশের পর জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনি গুতেরেস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া অর্থ ‘আলোচনার বিষয় নয়’। তিনি আগে সতর্ক করেছিলেন, বকেয়া অর্থের কারণে জাতিসংঘ ‘তাৎক্ষণিক আর্থিক সংকটের’ মুখে পড়েছে।শ
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কে এম