ঈশ্বরকে খুশি করতে লাশের পাশে নাচ


প্রকাশিত: ১১:২৩ এএম, ২৮ মার্চ ২০১৫

ঈশ্বরের সন্তুষ্টি লাভ করতে মানুষ কতো কিছুই না করে। ধর্ম অনুযায়ী ঈশ্বর লাভের প্রথা-কৌশলে আছে ভিন্নতা। আছে উপসনালয়েও পার্থক্য। কিন্তু লক্ষ্য থাকে একটাই- ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ।

তবে ঈশ্বরকে খুশি করতে মানুষের উদ্ভট উদ্যোগ তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে কিছুটা হাস্যকরই বটে।

সম্প্রতি ঈশ্বরকে সন্তুুষ্ট করতে জ্বলন্ত মৃতদেহের চারপাশে বলিউডি গানের তালে নাচলেন ভারতের কিছু যৌনকর্মীরা। পশ্চিমবঙ্গের বারাণসীর বিখ্যাত মণিকর্ণিকা ঘাটে মহাশশ্মান নাথ মন্দিরের সামনে এমন অদ্ভুত ঘটনাই ঘটেছে।

কাশী, গঙ্গার তীরে পবিত্র এই শহর বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে বিখ্যাত। বিশ্বনাথের মন্দির, গঙ্গার পারে সন্ধ্যা আরতি দেখার জন্যে এখানে দেশ-বিদেশ থেকে বহু লোক ছুটে আসে। তেমনই এখানে এক অদ্ভূত ধরণের হোলিও খেলা হয়, রঙভরী একাদশীর পরের দিন। মণিকর্ণিকাঘাটে মৃত দেহের ছাই নিয়ে খেলা হয় এই হোলি। এই রকমই এক অদ্ভূত আচার অনুষ্ঠান পালন করা হয় চৈত্র মাসের নবরাত্রির সপ্তম রাতে। গত পাঁচ শতক ধরে এই নিয়ম পালন করা হয়ে আসছে। এই রাতেই মৃতদেহকে ঘিরে নাচেন যৌনকর্মীরা।

এই রাতে ভগবানকে মন পেতে প্রথমে মহাশশ্মান নাথ মন্দিরের সামনে প্রার্থনা করা হয়। পেরে একটি জ্বলন্ত মৃতদেহকে ঘিরে শুরু হয় যৌনকর্মীদের বলিউডি গানের সঙ্গে নাচ।

প্রথম নাচটি মন্দিরের ভেতরে নাচার পর, বাইরে এসে নাচ শুরু করেন তাঁরা। এই নাচ দেখতে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে বিদেশী পর্যটক সবাই উপস্থিত থাকেন। অনুষ্ঠান শুরু হয় রাত ৮টা নাগাদ, নাচ চলে মধ্যরাত অবধি। তারপর ঈশ্বরকে শয়ন আরতি করে শুইয়ে দেওয়া হয়।

এই অনুষ্ঠানের এক আয়োজকের কথা অনুযায়ী, কাশীতে মৃত্যু মানে দুঃখ নয়, মৃত্য মানে উৎসব।

এলএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।