বিমানেই ছড়িয়ে ছিল যাত্রীদের ৬০০ দেহখণ্ড


প্রকাশিত: ০২:২১ এএম, ৩০ মার্চ ২০১৫

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় আল্পস পর্বতমালায় বিধ্বস্ত জার্মানউইংসের বিমানটির ১৫০ যাত্রীর কারো আস্ত মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। খণ্ড-বিখণ্ড মৃতদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল ভাঙা বিমানের টুকরোর মাঝে। ছড়িয়ে ছিল রক্তের চাপ চাপ দাগ। তালগোল পাকানো হাত-পা-ধর-মুণ্ড। ছিন্নভিন্ন শরীর।

দুর্ঘটনাস্থলের পাশেই তাঁবু খাটিয়েছেন জার্মান ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞের একটি দল। দিন-রাত এক করে সেখানে কাজ করে যাচ্ছেন কয়েকশো উদ্ধারকর্মী। কাজের ফাঁকে সেই মৃত্যু উপত্যকাতেই খাওয়া, সেখানেই ঘুম।

বিশেষজ্ঞ দলটির প্রধান মাইকেল সোকোস আতঙ্কিত গলায় বললেন, একটাও দেহ গোটা দেখতে পেলাম না। শুধুই ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে দেহের বিচ্ছিন্ন অংশ।

তার পর নিজেই বর্ণনা দিলেন তাঁদের কর্মকাণ্ডের। ডিএনএ পরীক্ষা করে দেহের এক-একটা অংশ মিলিয়ে এক জায়গায় জড়ো করছেন বিশেষজ্ঞরা। তার পর সেই দেহাংশগুলো কার, তা জানার পালা। ফের ডিএনএ পরীক্ষা। সে জন্য মৃত যাত্রীদের পরিবারের কাছে নমুনা (যেমন টুথব্রাশ, গয়না কিংবা চুল) চাওয়া হচ্ছে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁদের থেকে জানতে চাওয়া হচ্ছে, বিমানে ওঠার সময় মৃত যাত্রীর পরনে কী ছিল। গায়ে কোনো ট্যাটু ছিল কি না। কিংবা জন্ম থেকে যদি কোনো দাগ থেকে থাকে শরীরে।

নমুনা-পরীক্ষা চলছে বার্সেলোনার এক গবেষণাগারে। আবার একটি মোবাইল গবেষণাগারও তৈরি করা হয়েছে ধ্বংসস্তূপের কাছে। ফরেন্সিক পরীক্ষা করা হচ্ছে সেখানেও।

মাইকেলের কথায়, প্রত্যেকটা জিনিস খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আনা হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি দলকে। তাঁরা অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে হাতের ছাপ পরীক্ষা করে দেহাংশ সনাক্ত করছেন। কারণ, এ ছাড়া কোনও উপায় নেই। দেহাংশগুলো যে চেনার অবস্থায় নেই!

তিনি আরও জানালেন, যদি কোনো যাত্রীর শরীরে পেসমেকার বা কৃত্রিম হাড় বসানো থাকে, তা জানতে সিটি স্ক্যানও করে দেখা হচ্ছে। কারণ সেভাবেও দেহটি কার, তার সন্ধান পাওয়া সম্ভব। এই সব পর্ব শেষে কফিনবন্দি করা।

বিএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।