নাইজেরিয়ার এপিসি`র জয়
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথমবারের মতো জয় পেয়েছে বিরোধী দল অল প্রগেসিভ কংগ্রেস-এপিসি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২০ লাখেরও বেশি ভোট পেয়ে এপিসির নেতা মুহাম্মাদু বুহারি বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাথনকে পরাজিত করেছেন।
আর এ জয়ের মাধ্যমে অবসান ঘটলো ১৯৯৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা জোনাথনের দল পিপল`স ডেমোক্রেটিক পার্টির ১৫ বছরের শাসনের। জনগণের রায় মেনে নিয়ে বুহারিকে স্বাগত জানিয়েছেন জোনাথন।
এদিকে প্রিয় দলের বিজয়ের আনন্দে উল্লসিত নাইজেরিয়ার জনগণ। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অল প্রগেসিভ কংগ্রেস-এপিসি`র জয়ের খবর শুনেই মুহাম্মাদু বুহারির ছবি নিয়ে কাতসিনা প্রদেশের রাস্তায় নেমে পড়েছে তারা।
এক এপিসি সমর্থক বলেন, এ দিনটি আমাদের কাছে বহুল প্রতীক্ষিত একটি দিন। এমন একটি ঐতিহাসিক দিনের প্রত্যক্ষদর্শী করায় আমি সৃষ্টি কর্তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমি আশা করছি, নতুন প্রেসিডেন্টের অধীনে এগিয়ে যাবে নাইজেরিয়া।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, নাইজেরিয়ার ৩৬টি প্রদেশে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাথনের দল পিপল`স ডেমোক্রেটিক পার্টি-পিডিপি পেয়েছে এক কোটি ৩৩ লাখ ভোট। তার চেয়ে ২০ লাখের বেশি ভোট পেয়েছেন সাবেক সেনাশাসক মুহাম্মাদু বুহারি।
২০১০ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট পদে থাকা গুডলাক জোনাথান এরই মধ্যে পরাজয় মেনে বুহারিকে স্বাগত জানিয়েছেন। জোনাথনের সঙ্গে বৈঠকের পর নাইজেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল আব্দুস সালামি আবু বকর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত শনি ও রোববার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই দেশটির প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিক এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়।
এর আগে ১৯৯৯ সাল থেকে চার বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলেও সেসব নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিলো। ১৯৬০ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর ৪০ বছর ধরে বিভিন্ন সামরিক শাসকের শাসনে ছিলো নাইজেরিয়া।
আরএস/আরআইপি