‘আমি ধর্ষণের শিকার হতে পারি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৩৯ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৮

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের কাঠুয়ায় মন্দিরে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার ৮ বছরের শিশু আসিফার বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘু মুসলিমরা সন্দেহভাজন ধর্ষকদের গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।

এদিকে, সোমবার শিশু আসিফার পরিবারের আইনজীবী দীপিকা এস রাজাওয়াত এ ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় নিজের প্রাণহানির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নিজের নিরাপত্তার জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

আইনজীবী দীপিকা এস রাজাওয়াত বলেন, তিনি শঙ্কায় আছেন যে তাকে ধর্ষণ অথবা খুনের শিকার হতে পারেন।

‘আমি জানি না কতদিন বেঁচে থাকবো। আমি ধর্ষিত হতে পারি...আমার সম্ভ্রম হানি করা হতে পারে। আমি খুন হতে পারি, আমাকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হতে পারে। গতকাল আমাকে হুমকি দেয়া হয়েছে যে, আমরা তোমাকে ক্ষমা করবো না।

depeeka

আমি সুপ্রিম কোর্টকে এসব হুমকির ব্যাপারে জানাতে যাচ্ছি। পরে সোমবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট জম্মু-কাশ্মিরের সরকারকে কাঠুয়ার ওই মুসলিম পরিবার ও তাদের আইনজীবীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার সকালের দিকে নিহত শিশু আসিফার বাবা ধর্ষণ ও হত্যার ওই মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে চন্ডিগরে স্থানান্তরের আবেদন জানান। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্য-সহ তিনি নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলে সুপ্রিম কোর্টকে জানান।

আইনজীবী রাজাওয়াত বলেন, ‘কাঠুয়ায় এ মামলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নেই।’

কাশ্মিরের শিশু আসিফা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পুরো ভারত জুড়ে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে কয়েকদিন ধরে টানা বিক্ষোভ করেছেন তারা। সোমবার আসিফা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

depeeka

গত জানুয়ারিতে মুসলিম যাযাবর বাখেরওয়াল সম্প্রদায়ের শিশু আসিফাকে অপহরণ করে কাশ্মিরের ছয় দুর্বৃত্ত। এদের মধ্যে একজন সরকারি অবসরপ্রাপ্ত রাজস্ব কর্মকর্তা, দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও ক্ষুদে এক যুবক তাকে কাঠুয়ার একটি মন্দিরে আটকে রেখে চেতনানাশক খাইয়ে ছয়দিন গণধর্ষণ করে। ভয়াবহ এ কাজে মন্দিরের দুই নিরাপত্তা রক্ষীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে।

এ ঘটনা থেকে অপরাধীদের বাঁচাতে পুলিশের আরো দুই কর্মকর্তা ঘুষ নেন। জম্মু-কাশ্মির সরকার আসিফা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারকাজ পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের দু’জন আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে; যারা শিখ সম্প্রদায়ের। কাশ্মিরের এ ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ওই অঞ্চলসহ আরো বেশ কিছু রাজ্য। অভিযুক্তরা সবাই হিন্দু সম্প্রদায়ের।

শিশুটির মরদহে গত ১৭ জানুয়ারি উদ্ধার করা হয় এক অপরাধীকে গ্রেফতারের পর। পরে অভিযুক্তদের সবাইকে গ্রেফতার করা হলে তাদের মুক্তির দাবিতে হিন্দুত্ববাদীদের সংগঠন ‘হিন্দু একতা মঞ্চ’ প্রতিবাদ শুরু করে। অভিযুক্ত ধর্ষকদের মুক্তির দাবিতে দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির দুই মন্ত্রীও রাজপথের বিক্ষোভে অংশ নেন।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এএনআই।

এসআইএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :