ফেসবুকে প্রেম থেকে প্রণয়, অতঃপর ফেসবুকের কারণেই স্ত্রীকে খুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৫৭ পিএম, ৩১ জানুয়ারি ২০১৯

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়েছিল তাদের। পরিচয় রূপ নেয় প্রেমে; সেখান থেকে প্রণয়। সেই ফেসবুকই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়াল এক দম্পতির জীবনে। সারাক্ষণ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে মশগুল থাকায় স্ত্রীকে খুন করলেন স্বামী। তিন মাসের ছেলে সন্তানও পিতার রোষ থেকে নিস্তার পেল না। ছোট শিশুটিকেও শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বাবা।

ভারতের বেঙ্গালুরুর রামনগর জেলার বিদাদি শহরে গত ২০ জানুয়ারি এই ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে বিষয়টি সামনে এসেছে সম্প্রতি। রামনগর জেলা পুলিশ বলছে, দু’বছর আগে গুদামকর্মী এসকে রাজুর সঙ্গে ফেসবুকে আলাপ ২৫ বছরের সুষমার। বন্ধুত্ব থেকে ক্রমশ ঘনিষ্ঠতা বাড়ে দু’জনের। বিয়ের আগে সুষমা অন্ত্বঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে পরিবারের সম্মতিতে ছয় মাস আগে বিয়ে হয় তাদের। তিন মাস আগে ফুটফুটে ছেলের জন্ম দেন সুষমা।

কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি সুষমার আসক্তি ঘিরে সম্প্রতি মনোমালিন্য শুরু হয় তাদের। রান্নাবান্না এবং ঘরের অন্য কাজকর্ম ফেলে রেখে সারাক্ষণ স্মার্টফোনে ব্যস্ত থাকায় সুষমাকে সন্দেহ করতে শুরু করে রাজু। অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগও তোলে। সেই নিয়ে অশান্তি চরমে পৌঁছালে প্রথমে পাথর দিয়ে থেঁতলে স্ত্রীকে খুন করেন তিনি। তার পর গলা টিপে মেরে ফেলেন ছোট শিশুকেও।

খুনের পর নির্বিকারই ছিলেন রাজু। কিন্তু মেয়ে ও নাতির খবর না পেয়ে সন্দেহ জাগে সুষমার মায়ের। ২৬ জানুয়ারি মদনায়েকানাহাল্লি থানায় হাজির হন তিনি। মেয়ে ও নাতি নিখোঁজ বলে অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতেই রাজুকে আটক করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হলে স্ত্রী ও ছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি। পুলিশকে রাজু বলেন, স্ত্রীর আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। যে কারণে ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বেড়ানোর কথা বলে স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে বের হন। মোটরসাইকেলে চড়ে হেজ্জাল-মুট্টুরায়ানপুর রোড সংলগ্ন কুম্বলগড়ু জঙ্গল এলাকায় হাজির হন তিনি।

সেখানে পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে সুষমাকে খুন করেন। প্রমাণ মুছে ফেলতে পেট্রল ঢেলে মরদেহ জ্বালিয়ে দেন। তার পর গলা টিপে ছেলেকে হত্যার পর ঝোপের মধ্যে ফেলে দেন তিনি। এমন রোমহর্ষক ঘটনায় স্তম্ভিত বেঙ্গালুরুর রামনগর থানা পুলিশ।

তদন্তকারী এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে কখনও এমন ঘটনার কথা শুনিনি। সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের জীবনে কতখানি প্রভাব ফেলে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডই তার উদাহরণ। ফেসবুকেই রাজুর সঙ্গে আলাপ সুষমার। আর সোশ্যাল মিডিয়াই প্রাণ কেড়ে নিল তার।’

এসআইএস/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :