‘তাস’ ফ্যাক্টবক্স

‘সংলাপ সফল হবে না, ২-৩ দিনেই শেষ হবে’ আগেই জানিয়েছিল রুশ বার্তা সংস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৪১ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০২৬
ছবি: তাস

সম্মেলনের শহর খ্যাত জেনেভায় চলমান আলোচনার মধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথবাহিনী ইরানে হামলা চালায়। এর বিপরীতে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে ইরান। দীর্ঘ ৩৯ দিন যুদ্ধের পর ৭ এপ্রিল ইরানের দেওয়া ১০ দফা শর্তে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

ইরানের এই ১০ দফার মধ্যে ৫-৯ নম্বর দফাকে আলোচনায় বসার জন্য পূর্বশর্ত হিসেবে উপস্থাপন করে ইরান। নানা ঘটনার পর ইরানের জব্দ সম্পদ ফেরত (দফা-৫) ও লেবাননে হামলা বন্ধ (দফা-৯) হলে শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনায় বসে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল। তবে সে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।

ইসলামাবাদ আলোচনা সফল হবে না বলে আগেই জানিয়েছিলেন রুশ নিরাপত্তা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ।

মেদভেদেভ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি মেনে নেবে না। ফলে আবার সংঘাত শুরু হতে পারে। তবে তিনি একটি ‘মধ্যবর্তী বিকল্পের’ কথাও উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন>>
১০ দফা শর্তে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ‘ইরানের বিজয়’: দিমিত্রি মেদভেদেভ

একই সঙ্গে রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস-এর ফ্যাক্টবক্স (যেসব তথ্য এই সংস্থা সরাসরি সংগ্রহ করে ও তথ্যের নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে) জানায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ দিন চলতে পারে এবং এর মধ্যেই আলোচনা শেষ হবে।

এছাড়া তাস ফ্যাক্টবক্স জানায়, পরমাণু সমৃদ্ধকরণ বিষয়ে সমঝোতা করবে না যুক্তরাষ্ট্র এবং এই শর্তটি আলোচনার প্রধান বিষয় হিসেবে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তাস প্রকাশিত খবরে আরও বলা হয়, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি মোতাবেক ফেব্রুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চলতে থাকা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধের শামিল। ইরানের এই প্রস্তাবও যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করবে বলে রুশ বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে জানানো হয়।

এই সংবাদের তথ্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আবদুল মাজিদ হাকিম এলাহি জানিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করা হয়।

ওই বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করেছে।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলেও জানানো হয়।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পদক্ষেপগুলোকে তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে দেখা উচিত নয়, কারণ সেগুলো কেবল যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত যৌথবাহিনীর হামলায় ২০৭৬ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছে ২৬ হাজারের বেশি মানুষ। একই দিনে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়।

কেএম 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।