আরো একটি মামলার চার্জশিটে ব্যারিস্টার শাকিলার নাম
জঙ্গি সংগঠন হামজা ব্রিগেডকে অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেফতার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলায় চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে র্যাব। হাটহাজারী থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্রে তাকেসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার দুপুর ১২টায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-৭ এর এএসপি রুহুল আমীন চট্টগ্রাম জেলা আদালতের জিআরও শাখায় এ অভিযোগপত্র জমা দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৭ এর পরিচালক লেফটেনেন্ট কর্ণেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ জানান, হাটহাজারী থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্রে সাক্ষী করা হয়েছে ৮৩ জনকে। এছাড়া হামজা ব্রিগেডের কথিত বড় ভাই আল্লামা লিবদিসহ ৫৩ জনের নাম থাকলেও এদের অধিকাংশই ঠিকানাবিহীনভাবে আসামি করা হয়।
এরআগে বাঁশখালীর জঙ্গি আস্তানা থেকে অস্ত্র উদ্ধার মামলায় গত ২০ মার্চ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, দুই আইনজীবীসহ ‘শহীদ হামজা ব্রিগেডের’ ২৮ জনকে আসামি দেখিয়ে অপর একটি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-৭ এর এএসপি রুহুল আমীন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, দুই আইনজীবীসহ ‘শহীদ হামজা ব্রিগেডের’ ৩৩ জনের নামে উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাত ৫৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে সাক্ষী করা হয়েছে ৮৩ জনকে। যাদের ঠিকানা পাওয়া যায়নি, সম্পূরক চার্জশিটে তাদের ঠিকানা দেয়া হবে।
র্যাব জানায়, জঙ্গি সংগঠন হামজা ব্রিগেডকে অস্ত্র কেনার জন্য এক কোটি ৮ লাখ টাকা যোগানোর অভিযোগে গত বছরের ১৮ আগস্ট রাতে ঢাকার ধানমন্ডি থেকে হাসানুজ্জামান লিটন ও মাহফুজ চৌধুরী বাপনসহ চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যরিস্টার শাকিলা ফারজানাকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে আইনজীবী লিটন সুপ্রিম কোর্টে ও আইনজীবী মাহফুজ চৌধুরী বাপন ঢাকা জজ কোর্টে কর্মরত।
পরে ৫ সেপ্টেম্বর জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে রাজধানীর টঙ্গির তুরাগ এলাকা থেকে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এনামুল হককে গ্রেফতার করে র্যাব।
র্যাব তাদের চট্টগ্রামে এনে বাঁশখালী ও হাটহাজারী থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখায়। সন্ত্রাস দমন আইনে হাটহাজারী থানায় দায়ের করা মামলায় আইনজীবী লিটন ও বাপন গত ১৪ ডিসেম্বর জামিন পান।
সন্ত্রাস দমন আইনে করা বাঁশখালী থানার মামলায় এর আগে জামিন পান ওই দুই আইনজীবী। পরে গত ১৫ ডিসেম্বর তারা মুক্তি পান।
দুই দফা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর শাকিলাসহ তিন আইনজীবী আদালতে দুই দফা জবানবন্দি দিলেও তারা সরাসরি জঙ্গি অর্থায়নের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তারা জানান, মামলা পরিচালনার জন্য মক্কেলের কাছ থেকে নেয়া টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছেন।
জীবন মুছা/এনএফ/এবিএস